📌 ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধের চাপে লেবাননের বাসিন্দারা আবারও আতঙ্কে জিনিসপত্র সংগ্রহ করছেন। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘর্ষে ৯০০০-এরও বেশি লেবাননির মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলের ‘সরলাইন’ নীতি দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করছে।
লেবাননের রাজধানী বেইরুতে অবস্থিত আবাসিক এলাকা আব্বাসিয়েহের বাসিন্দা আয়া বলেছেন, ইসরায়েলের মার্চ মাসের যুদ্ধের সময় তিনি পরিবারের সাথে বাড়িতে থেকেছেন। তার পাশের বাড়ি একবার ইসরায়েলি আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এপ্রিলে ঘোষিত অস্থায়ী শান্তি চুক্তির পরেও যুদ্ধের শব্দ বন্ধ হয়নি। এখন আবার নতুন ইসরায়েলি আক্রমণের ভয়ে লেবাননের বাসিন্দারা আতঙ্কে জিনিসপত্র সংগ্রহ করছেন এবং বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৯০০০-এরও বেশি লেবাননির মৃত্যু**: ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯০০০ জনেরও বেশি লেবাননির মৃত্যু হয়েছে, বিশেষত ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের যুদ্ধে।
- 📌 **‘সরলাইন’ নীতি**: ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ১০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে ‘সরলাইন’ নামে একটি সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই সীমানার নিচে থাকা এলাকাগুলো বাসযোগ্য নয়।
- 📌 **বাসিন্দাদের আতঙ্ক**: আয়া বলেছেন, “আমি আর এই বাস্তুচ্যুত হওয়ার শক্তি রাখি না। আমার চারপাশের লোকেরা যেন কিছুই ঘটেনি বলে জীবন যাপন করছে, কিন্তু আমার মনটা ভেঙ্গে যাচ্ছে।”
- 📌 **মেডিসিন ও খাদ্য সংগ্রহ**: লেবাননের বাসিন্দারা অতিরিক্ত মেডিসিন, খাদ্য এবং চার্জার সংগ্রহ করছেন। তারা জানেন, নতুন আক্রমণ শুরু হলে বাড়ি থেকে বের হতে হবে।
- 📌 **ইরানের সতর্কতা**: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা করছেন। ইরান সতর্ক করেছে যে, এমন আক্রমণ হলে তারা লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে প্রতিশোধ নেবে।
- 📌 **লেবানন সেনাবাহিনীর অভিযোগ**: ইসরায়েলের অভিযোগ, লেবানন সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিষ্ক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। লেবানন সেনাবাহিনী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের আক্রমণে ৯০০০-এরও বেশি লেবাননির মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ১০ মিনিটের মধ্যে ১০০-এরও বেশি আক্রমণ চালায়, যার ফলে ৩৫০ জনেরও বেশি লেবাননির মৃত্যু হয়। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ‘পাইলট জোন’ নামক কিছু এলাকা থেকে প্রত্যাহার করবে এবং লেবানন সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে নিষ্ক্রিয় করবে।
চুক্তির পরেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলো ধ্বংস করছে। ‘সরলাইন’ নামে পরিচিত এই সীমানার নিচে থাকা এলাকাগুলো বাসযোগ্য নয়। লেবাননের বাসিন্দারা জানান, তারা ‘সরলাইন’ সীমানার উপরে থাকলেও যুদ্ধের শব্দ, ড্রোন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। তারা জানান, তাদের জমি অ্যাক্সেস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহামাদ বাজ্জি বলেছেন, “লেবাননের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কোনো উদ্দীপনা দরকার নেই। তারা শান্তি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননের এলাকাগুলো ধ্বংস করছে। ইসরায়েলের লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননকে বাসযোগ্য করে তুলতে বাধা দেওয়া এবং শিয়া সম্প্রদায়কে শাস্তি দেওয়া।”
"আমার চারপাশের লোকেরা যেন কিছুই ঘটেনি বলে জীবন যাপন করছে, কিন্তু আমার মনটা ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমি আর এই বাস্তুচ্যুত হওয়ার শক্তি রাখি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লেবানন (বিশেষত দক্ষিণাঞ্চল ও বেইরুত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আয়া (আবাসিক), মোহামাদ বাজ্জি (লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০০০ জন মৃত্যু, ১০ কিলোমিটার দখলকৃত এলাকা, ১০০টি আক্রমণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!