📌 ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের মধ্যে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। ইরানের আইনপ্রণেতা মোগাদ্দামের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ওষুধ, রাজনৈতিক সমর্থন ও ট্রানজিট ফি আদায়ের লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য ইরান নৌ অবরোধ আরোপের পরও ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার পেছনে রয়েছে কৌশলী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনা। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান আমির হায়াত মোগাদ্দাম জানান, এই চারটি দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বাধা দিচ্ছে না। ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু জুলাই মাসে আবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের পর এই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ইরান হরমুজ প্রণালিতে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে অবরোধ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে** — কিন্তু তাদের জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে ট্রানজিট ফি বা পণ্য মাশুল আদায় করছে তেহরান।
- 📌 **ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করা হবে**, কিন্তু কাতারের জাহাজ বিনা মাশুলে চলাচল করতে পারবে। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো মাশুলের কথা বলেননি মোগাদ্দাম।
- 📌 **ইরান পাচ্ছে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন**। কাতার বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার নেতৃত্ব দিচ্ছে।
- 📌 **হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহিত হয়, যার ৪২ শতাংশ চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে যায়**। ইরান চীনের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা (৯০ শতাংশ)।
- 📌 **বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমান অবরোধের ফাঁক দিয়ে অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে** — বিশেষ করে চীন ও ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির উপকমিটির চেয়ারম্যান আমির হায়াত মোগাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ‘এই চারটি দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোকে বাধা দিচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করবে ইরান, কিন্তু কাতারের জাহাজ বিনা মাশুলে চলাচল করতে পারবে। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো মাশুলের কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক রুজবেহ পারসি বলেন, ‘ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।’ জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি মন্তব্য করেন, ‘ইরান জাহাজগুলোকে হয়রানি ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ট্রানজিট ফি অথবা পণ্যের মোট মূল্যের একটি অংশ আদায় করছে।’
অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুস্তাই জানান, ‘চীন ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়। এছাড়া কাতার এবং ভারতকে এই ছাড়ের আওতায় এনে ইরান ওয়াশিংটনের যুদ্ধকৌশলকে আন্তর্জাতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।’
"আইনপ্রণেতা যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, সেটিই হয়তো এই সিদ্ধান্তের কারণ। তবে বাস্তবে এটি কার্যকর হচ্ছে কি না এবং হলে কতটা কার্যকর হচ্ছে — এই প্রশ্নটি এখনও অব্যাহত রয়েছে।"
— রুজবেহ পারসি, সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আমির হায়াত মোগাদ্দাম (ইরানের আইনপ্রণেতা), রুজবেহ পারসি (বিশ্লেষক), নাদের হাশেমি (অধ্যাপক), উলফগ্যাং পুস্তাই (বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি (অবরোধ শুরু), ৯০% (চীনের তেল ক্রয়), ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল (দৈনিক তেল পরিবহন), ৪২% (চীনে তেল গমন), ১৩% (ভারতে তেল গমন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!