📌 দীর্ঘ এক যুগ পর হাওরের ঘোড়াউত্রা নদীতে নিকলী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়
দীর্ঘ এক যুগ পর হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আবির্ভাব ঘটেছে ঘোড়াউত্রা নদীতে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিকলী উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় সারি সারি নৌকায় মাঝিরা ছন্দময়ভাবে বইঠা চালাচ্ছিলেন। নদীর দুই পাড় ও মাঝখানে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসের স্রোত বয়ে চলেছে, আর ঢাকঢোলের তালে মুখর হয়ে উঠেছে নদী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮ সেপ্টেম্বর নিকলী উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দীর্ঘ এক যুগ পরের নৌকাবাইচ, যা হাওরাঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
- 📌 ৩০ জন করগাঁও এলাকার মানুষ মোবারক মিয়া নেতৃত্বে নৌকায় করে বাইচ উপভোগ করেছেন, যাদের মধ্যে ২৯ বছর বয়সী মোবারক মিয়া প্রথমবারের মতো এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান দেখেছেন।
- 📌 বিজয়ী দলকে ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থানীয় দলকে টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থানীয় দলকে মোবাইল ফোন পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
- 📌 অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
- 📌 নৌকাবাইচের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে এবং লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য।
📰 বিস্তারিত
ঘোড়াউত্রা নদীর মাঝখানে নৌকাবাইচের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সাথে সাথে নদীর পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে যায়। ঢাকঢোলের তালে মাঝিরা একসঙ্গে বইঠা চালাচ্ছেন, প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছোঁয়া। প্রতিটি নৌকা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে, দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসের সাথে সাথে প্রতিযোগিতার তাল বাড়ে। বিজয়ী দলের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়, দ্বিতীয় স্থানীয় দল পায় টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থানীয় দলের হাতে মোবাইল ফোন প্রদান করা হয়। পুরস্কার পাওয়ার পর বিজয়ী দল ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত বয়ে যায়।
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় নৌকার ভূমিকা বহু পুরনো। বর্ষায় বিস্তীর্ণ হাওর পানিতে নৌকাই হয়ে ওঠে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেছেন, একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি উৎসবেই লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া ছিল। জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গান, লাঠিখেলা, কাবাডি ও নৌকাবাইচ ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। দীর্ঘদিন পর এই নৌকাবাইচের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি বলেছেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক গভীর। এই নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, লোকজ ঐতিহ্য ধরে রাখারও একটি প্রয়াস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া, যিনি নিকলী সম্মিলিত নাগরিক সমাজের সভাপতি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা, নিকলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার, কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মাসুক মিয়া এবং নিকলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. মিয়া হোসেনসহ অনেকে।
"হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক গভীর। এই নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, লোকজ ঐতিহ্য ধরে রাখারও একটি প্রয়াস।"
"একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি উৎসবেই লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিকলী উপজেলা, বেড়িবাঁধ এলাকা, ঘোড়াউত্রা নদী, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, মোবারক মিয়া, রাকিবুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া, শামীম আরা, মোকাররম সর্দার, হাজী মাসুক মিয়া, মো. মিয়া হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ সেপ্টেম্বর, ৩০ জন, ২৯ বছর, ৫ নং আসন (নিকলী-বাজিতপুর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!