📌 ইসরায়েলি দুই ভাই এলিয়াভ ও হারেল লিবি তাদের কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতির দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও উচ্ছেদে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল ও ইহুদি বসতির অবৈধ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইসরায়েলি দুই ভাই এলিয়াভ ও হারেল ‘কোকো’ লিবি। তাদের মালিকানাধীন লিবি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রতিষ্ঠান দ্রুত স্থাপনযোগ্য ভবন নির্মাণ করে বসতিগুলোকে দ্রুত স্থাপন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত কয়েক বছরে এলিয়াভ ও হারেল লিবি ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান অন্তত ৯টি নতুন কৃষিভিত্তিক বসতি স্থাপনে সহায়তা করেছে।
- 📌 পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১৮৪টি নতুন অনুমোদনহীন বসতি গড়ে উঠেছে, এর মধ্যে গত বছরই ৮৬টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে মোট আউটপোস্টের সংখ্যা প্রায় ৪১০টি।
- 📌 রয়টার্সের অনুসন্ধানে ৩০টি নতুন বসতির তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যেখানে সাধারণত এক-দুটি প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর দিয়ে শুরু হয়।
- 📌 ফিলিস্তিনি বসতিবাসীদের ওপর সহিংসতা ও উচ্ছেদের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,১০০-এর অধিক আহত হয়েছেন।
- 📌 ২০২২ সাল থেকে লিবি-সংশ্লিষ্ট বসতিগুলোর আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ৪৩৪ জন ফিলিস্তিনি বেদুইন পশুপালক ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
- 📌 ইসরায়েলি সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে লিবি ভাইদের সাথে। তাদের প্রতিষ্ঠান সরকারি কৃষি অনুদান ও পশুচারণের অনুমতি পেয়েছে এবং গাজায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংসের কাজেও তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।
- 📌 ২০২৫ সালে গাজায় ভারী যন্ত্র চালানোর সময় এলিয়াভ লিবির ১৯ বছর বয়সী ছেলে ডেভিড নিহত হন।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের আমলে পশ্চিমতীরে বসতির দ্রুত বিস্তার ঘটছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এসব বসতিকে ইসরায়েলের ‘ঐতিহাসিক ভূমিতে’ নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দেয়াল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- 📌 অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য লিবি ভাইদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য তাদের ভূমি দখল ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
- 📌 ইসরায়েলি ডানপন্থী নেতারা এটিকে পশ্চিমতীরে ‘বাস্তবিক সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে প্রকাশ্যেই তুলে ধরছেন।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলি দুই ভাই এলিয়াভ ও হারেল লিবি তাদের কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান লিবি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে পশ্চিমতীরে অবৈধ ইহুদি বসতির দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরে তারা অন্তত ৯টি নতুন কৃষিভিত্তিক বসতি স্থাপনে সহায়তা করেছেন। এসব বসতি সাধারণত এক-দুটি প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর দিয়ে শুরু হয়। পরে সেখানে তরুণ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা গবাদিপশু নিয়ে গিয়ে চারণভূমি দখল করেন। ইসরায়েলি আইনের দৃষ্টিতেও অনুমোদনহীন এসব ‘আউটপোস্ট’ অবৈধ। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের আমলে এগুলোর দ্রুত বিস্তার ঘটছে।
পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১৮৪টি নতুন অনুমোদনহীন বসতি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে গত বছরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৮৬টি। বর্তমানে মোট আউটপোস্টের সংখ্যা প্রায় ৪১০। রয়টার্স সরেজমিন পরিদর্শন ও স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৩০টি নতুন বসতির তথ্য যাচাই করেছে।
জাতিসংঘ ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। অন্যদিকে ইসরায়েল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় অধিকারের যুক্তিতে এ অবস্থানের বিরোধিতা করে। লিবি ভাইদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বা অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তাদের প্রতিষ্ঠিত বসতিগুলোর আশপাশে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ও উচ্ছেদের অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,১০০-এর অধিক আহত হন। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৩ জন এবং আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি।
চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে লিবি-সংশ্লিষ্ট বসতিগুলোর আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ৪৩৪ জন ফিলিস্তিনি, যাদের অধিকাংশই বেদুইন পশুপালক, ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। লিবি ভাইদের সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। তাঁদের প্রতিষ্ঠান সরকারি কৃষি অনুদান ও পশুচারণের অনুমতি পেয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গাজায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ধ্বংসের কাজেও তাঁদের প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে।
"গবাদিপশু, বেড়া ও রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ জমির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে"
২০২৫ সালে গাজায় ভারী যন্ত্র চালানোর সময় এলিয়াভ লিবির ১৯ বছর বয়সী ছেলে ডেভিড নিহত হন। এলিয়াভ লিবি প্রকাশ্য বক্তব্যে পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর কৌশল হিসেবে সমর্থন করেছেন। গত দুই বছরে ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বও কৃষিভিত্তিক এসব বসতির প্রতি আগের তুলনায় বেশি সমর্থন দেখিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এসব বসতিকে ইসরায়েলের ‘ঐতিহাসিক ভূমিতে’ নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দেয়াল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিমতীর, গাজা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এলিয়াভ ও হারেল লিবি, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েল কাটজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি বসতি, ১৮৪টি নতুন বসতি, ৮৬টি বসতি (২০২৫), ৩০টি বসতি (রয়টার্স যাচাই), ১৬ জন নিহত, ১,১০০+ আহত, ৪৩৪ জন উচ্ছেদ, ১৯ বছর বয়সী ডেভিড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!