📌 ইসরায়েলের ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটাধিকার থাকলেও তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ক্রমশ হুমকির মুখে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি দখল, অপরাধ সংগঠনের হাত থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়া, এবং বসতি স্থাপনের ফলে তাদের জীবনযাপন বিপন্ন। বামপন্থী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে নেটানিয়াহুর বিরুদ্ধে গঠিত জোটও তাদের জন্য কোনো পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারছে না
ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেটানিয়াহু এবং তার বিরোধী দলের নেতা প্রাক্তন সেনাপতি গাদি আইজেনকটের মধ্যে নির্বাচন চলছে। কিন্তু ইসরায়েলের ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য এই নির্বাচন একটি ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েলের রাজনৈতিক মূলধারায় ক্রমশ ডানপন্থী শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ক্রমশ হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের সম্প্রদায়ে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের জমি দখল করছে এবং নাগরিক জীবনে পুলিশ ও সামরিকীকরণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নেটানিয়াহুর বিরোধী জোটও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য কোনো নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিতে পারছে না। ফলে তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে যে, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কোনো অর্থ আছে কি না?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটাধিকার থাকলেও তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ক্রমশ হুমকির মুখে পড়েছে।
- 📌 ১৯৪৮ সালের নাকবা থেকে বেঁচে থাকা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও, তাদের জমি দখল, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আরব-ইসরায়েলি’ পরিচয় প্রসারিত করার মাধ্যমে তাদের ফিলিস্তিনি পরিচয় থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।
- 📌 ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপর সরাসরি সহিংসতা না করলেও, অপরাধ সংগঠনগুলিকে ‘বহিষ্কৃত’ করে তাদের উপর গুলিবিদ্ধ, বোমা হামলা ও আগুন জ্বালানোর মতো সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।
- 📌 ২০২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘মিশ্র শহর’ যেমন জাফা ও লিদ্দে ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি স্থাপন করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।
- 📌 ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মট্রিচের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেগেভ ও উত্তর ইসরায়েলে এক মিলিয়ন নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের মাধ্যমে ‘জুডাইজেশন’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ৪০টি নতুন বসতি, শত শত কৃষি প্রকল্প এবং লক্ষাধিক বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় গার্ডের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামগুলিতে পুলিশিং ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
১৯৪৮ সালের নাকবা থেকে বেঁচে থাকা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও, তাদের জীবনযাপন ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠে থাকে। ১৯৫২ সালে তাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও, মার্শাল লো উঠানো হলেও, তাদের জমি দখল, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ এবং ‘আরব-ইসরায়েলি’ পরিচয় প্রসারিত করার মাধ্যমে তাদের ফিলিস্তিনি পরিচয় থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য বৈষম্যমূলক আইন, প্রাথমিক পরিষেবা খাতে অর্থের অপার্য এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তাদের মার্জিত করা হচ্ছে।
ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপর সরাসরি সহিংসতা না করলেও, অপরাধ সংগঠনগুলিকে ‘বহিষ্কৃত’ করে তাদের উপর গুলিবিদ্ধ, বোমা হামলা ও আগুন জ্বালানোর মতো সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সহিংসতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ অপরাধ সংগঠনগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর থেকে চুরি করা অস্ত্র বা সীমান্ত দিয়ে আনা অস্ত্র ব্যবহার করছে। এই অস্ত্রের সংখ্যা হাজার হাজার।
২০২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘মিশ্র শহর’ যেমন জাফা ও লিদ্দে ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি স্থাপন করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মট্রিচের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেগেভ ও উত্তর ইসরায়েলে এক মিলিয়ন নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের মাধ্যমে ‘জুডাইজেশন’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ৪০টি নতুন বসতি, শত শত কৃষি প্রকল্প এবং লক্ষাধিক বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরের মডেলকে নেগেভ ও উত্তর ইসরায়েলে প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে।
২০২১ সালের মে মাসে ‘দিগ্নিটি আন্দোলন’ নামে পরিচিত প্রতিবাদ শুরু হয়, যা লিদ্দ, হাইফা, উম্ম আল-ফাহম এবং শতাধিক শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই প্রতিবাদকে দমন করার জন্য জাতীয় গার্ড গঠনের পরিকল্পনা করছেন।
"আরব-ইসরায়েলি" পরিচয় প্রসারিত করার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের তাদের ফিলিস্তিনি পরিচয় থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (বিশেষত নেগেভ ও উত্তর ইসরায়েল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনজামিন নেটানিয়াহু, গাদি আইজেনকট, বেজালেল স্মট্রিচ, ইতামার বেন-গভির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০% (ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অনুপাত), ৪০টি (নতুন বসতি), ১০০০০০০ (নতুন বসতি বাসিন্দা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!