📌 ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে, কিন্তু সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু করবে না। ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি ও ইরানের পাল্টা প্রতিশোধের আশঙ্কা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের এমপি জানিয়েছেন, নতুন হামলায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেরও বেশি হতে পারে
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে, কিন্তু সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু করবে না। কাতারের মাধ্যমে প্রেরিত এই প্রস্তাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দল এই প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি পূর্বে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং কোনো আলোচনায় বসবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে, কিন্তু সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা শুরু করবে না।
- 📌 ইরানের সাতটি শর্তের মধ্যে রয়েছে: লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ইরানের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করা।
- 📌 ইরানের এমপি হোসেইনালি হাজি দেলিগানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় তেহরান।
- 📌 ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, ইরানে হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন। তবে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ইরান কোনো আলোচনায় বসবে না। এই সাতটি শর্তের মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করা।
ইরানের এমপি হোসেইনালি হাজি দেলিগানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জবাব কোনো হামলার ব্যাপ্তি বা অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা না করেই এই জবাব হবে ‘ব্যাপক, বহুগুণ শক্তিশালী ও কৌশলগত’।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে দেশটির বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় তেহরান। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে চার দফা আলোচনাই ভণ্ডুল করেছে। তার ভাষ্য, ওয়াশিংটনের এমন আচরণের কারণে কেবল লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ নেই।
ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, ইরানে হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ড্যানন।
"যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর না করে দেশটির বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় তেহরান। যখন এমন পদক্ষেপ দেখা যাবে, তখনই নতুন অধ্যায় শুরুর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, ইরান, কাতার, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহসেন রেজায়ি, হোসেইনালি হাজি দেলিগানি, আলী বাঘেরি কানি, ড্যানি ড্যানন, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭টি শর্ত, ১৫০ ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!