📌 ইসরায়েলের ২০ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিজ মাতৃভূমিতে সংখ্যালঘু হিসেবে বৈষম্য ও সহিংসতার মুখোমুখি। ১৯৪৮ সালের নাকবা মহাবিপর্যয়ের পর থেকে তারা নাগরিকত্ব পেলেও অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করছে। সামরিক শাসন, ভূমি অধিকার বঞ্চনা ও পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের লড়াই চলছে
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জীবন বৈষম্য ও রাজনৈতিক দমনের চক্রে আবদ্ধ। নিজ মাতৃভূমিতে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করছেন এই ২০ লাখেরও বেশি মানুষ, যাঁরা ১৯৪৮ সালের নাকবা মহাবিপর্যয়ের পর থেকে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পেলেও সমান অধিকার পাননি। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা, যাঁদের অধিকাংশই উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি, ত্রিভুজ অঞ্চল ও নেগেভ মরুভূমিতে বসবাস করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের ২০ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিজ মাতৃভূমিতে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করছেন, যাঁরা ১৯৪৮ সালের নাকবা মহাবিপর্যয়ের পর থেকে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পেলেও বৈষম্যের শিকার
- 📌 ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় জায়নবাদী বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ৮০ শতাংশকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে, বাকি ২০ শতাংশই ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পায়
- 📌 ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ৮০ শতাংশ মুসলিম, ১০ শতাংশ খ্রিষ্টান ও ১০ শতাংশ দ্রুজ সম্প্রদায়ের মানুষ, যাঁরা নিজেদের 'ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক' হিসেবে পরিচয় দেন
- 📌 ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সামরিক শাসন চালানো হতো, যেখানে ইহুদি নাগরিকদের বেসামরিক আইন প্রয়োগ করা হতো
- 📌 অধিকার আদায়ে সংগ্রামের পাশাপাশি, ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা পুলিশি সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের শিকার হন, বিশেষত অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানোর সময়
📰 বিস্তারিত
১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন ফিলিস্তিনি আরবরা। কিন্তু ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর জায়নবাদী মিলিশিয়া ও ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার প্রচেষ্টা চালায়। এই 'নাকবা' বা মহাবিপর্যয়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হন, শত শত গ্রাম ধ্বংস হয় এবং ৮০ শতাংশ ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বিতাড়িত হন। বাকি ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের সীমানার ভেতরে থেকে যায়, যাঁদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হন।
বর্তমানে ইসরায়েলের প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ২০ শতাংশই ফিলিস্তিনি নাগরিক। তাঁদের অধিকাংশ বসবাস করেন উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি, মধ্য ইসরায়েলের ত্রিভুজ অঞ্চল এবং দক্ষিণের নেগেভ মরুভূমিতে। ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মুসলিম, ১০ শতাংশ খ্রিষ্টান এবং ১০ শতাংশ দ্রুজ সম্প্রদায়ের মানুষ। ইসরায়েলি রাষ্ট্র ও সমাজ তাঁদের সাধারণত 'ইসরায়েলি আরব' বলে উল্লেখ করে, কিন্তু তাঁরা নিজেদের 'ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক' হিসেবে পরিচয় দেন।
১৯৪৮ সালের পর থেকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সামরিক শাসন চালানো হতো। এই সময়ে তাঁরা চলাচলে বিধিনিষেধ, কারফিউ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধতা পেতেন। ইহুদি নাগরিকদের বেসামরিক আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বৈষম্য আরও বেড়ে যায়। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাঁরা রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, কিন্তু বৈষম্য ও সহিংসতার মুখোমুখি হন।
"নিজ মাতৃভূমিতেই সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করছেন ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা। বৈষম্য, প্রান্তিকীকরণ ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছেন তাঁরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (গ্যালিলি, ত্রিভুজ অঞ্চল, নেগেভ মরুভূমি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকরা (২০ লাখেরও বেশি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ (ফিলিস্তিনি নাগরিক), ৮০% (মুসলিম), ১০% (খ্রিষ্টান ও দ্রুজ), ৭৮% (ইসরায়েলের দখলকৃত ভূখণ্ড), ৮০% (ফিলিস্তিনি বিতাড়িত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!