📌 চীন ও ভুটানের মধ্যে ডোকলামসহ সীমান্ত বিরোধের ১৬তম বৈঠকে আলোচনা এগেছে, কিন্তু ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে। শিলিগুড়ি করিডর বা 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তা নিয়ে নয়া দিল্লি সতর্ক, কারণ এই এলাকায় সামরিক অবস্থানের পরিবর্তন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে
চীন ও ভুটানের মধ্যে ডোকলামসহ সীমান্ত বিরোধের ১৬তম বিশেষজ্ঞ বৈঠকে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে 'চিকেনস নেক'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল শিলিগুড়ি করিডরের উপর চীনের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপদে ফেলতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬তম বৈঠকে চীন ও ভুটান ১৩-১৫ অক্টোবর থিম্পুতে সীমান্ত বিরোধের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ডোকলাম নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি
- 📌 ২০১৭ সালের ডোকলাম সংকট থেকে ৭৩ দিনের সামরিক অচলাবস্থার পরও ভারতের উদ্বেগ অব্যাহত, কারণ এই এলাকায় চীনের সামরিক অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে
- 📌 শিলিগুড়ি করিডর বা 'চিকেনস নেক'-এর সর্বনিম্ন প্রশস্ততা ২০ মাইল, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে
- 📌 ২০২১ সালের তিন ধাপের রূপরেখা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ডোকলামসহ বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোর ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত
- 📌 ভুটানের সাকতেং বিরোধও ডোকলামের মতো চীন-ভুটান সম্পর্কে ভারতের নজরদারি বাড়িয়েছে
📰 বিস্তারিত
ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত ১৬তম বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠকে চীন ও ভুটান সীমান্ত বিরোধের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈঠকের সময়কাল ছিল ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর। তবে বৈঠকের ফলাফল হিসেবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয়নি। বিশেষ করে ডোকলাম এলাকায় কোনো সমঝোতা সিদ্ধান্তে আসেনি। এই এলাকাটি ভারত, চীন ও ভুটানের সীমান্তসংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত, যা ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৭ সালে ডোকলাম এলাকায় চীনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে ৭৩ দিনের অচলাবস্থা চলেছিল। পরে উভয় পক্ষের সেনারা ওই এলাকা থেকে সরে যায়। তবে ভারতের উদ্বেগ এখনো অব্যাহত, কারণ ডোকলামের ভৌগোলিক অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের নিকটে। এই করিডরটি 'চিকেনস নেক' নামে পরিচিত এবং এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই করিডরটির সর্বনিম্ন প্রশস্ততা প্রায় ২০ মাইল।
চীন ও ভুটানের মধ্যে আলোচনার মূল বিষয় হলো উত্তর, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত বিরোধ। অতীতের আলোচনায় উত্তর ভুটানের কিছু এলাকার বিনিময়ে পশ্চিমাঞ্চলের ডোকলামসংলগ্ন এলাকায় সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা হয়েছিল। তবে এই ধরনের ভূখণ্ড বিনিময় হলে তা ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, ডোকলাম এলাকায় চীনের অবস্থান শক্তিশালী হলে শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি নজরদারি ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বাড়তে পারে।
"ডোকলাম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বা সামরিক অবস্থানের পরিবর্তন ভারতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: থিম্পু (ভুটান), শিলিগুড়ি করিডর (পশ্চিমবঙ্গ), ডোকলাম (ভারত-চীন-ভুটান সীমান্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক, চীন ও ভুটানের বিশেষজ্ঞ দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬তম বৈঠক, ১৩-১৫ অক্টোবর, ৭৩ দিন, ২০ মাইল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!