📌 লাদাখ প্রশাসন জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠিত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের ক্লাশ বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। জমি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ড. গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোকে নোটিশ পেয়েছেন
লাদাখ প্রশাসন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস (এইচআইএএল) আওতাধীন ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের ক্লাশ বন্ধের নোটিশ জারি করেছে। লেহ তহসিলদার জারি করা এই নোটিশে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমোকে ‘স্থিতাবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, জমি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে চলমান আদালতের মামলার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লেহ তহসিলদার জারি করেছেন ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের ক্লাশ বন্ধের নোটিশ
- 📌 নোটিশ পেয়েছেন এইচআইএএলের সিইও ড. গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো
- 📌 জমি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে চলমান হাইকোর্ট মামলায় নতুন জটিলতা
- 📌 প্রশাসনের দাবি: স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জন্য অনাপত্তিপত্র চেয়ে আবেদন করা হলেও অনুমোদন পাওয়ার আগেই ক্লাশ শুরু
- 📌 ২০১৮ সালে ১ হাজার ৭৬ কানাল জমি ৪০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাতিল
- 📌 প্রশাসন বলেছে: ইজারার দলিল সম্পন্ন না হওয়ায় জমি বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে
- 📌 সোনম ওয়াংচুক দাবি: প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা এবং করোনা মহামারির কারণে বিলম্বের বিষয় স্বীকার করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
লাদাখ প্রশাসনের নোটিশে বলা হয়েছে, এইচআইএএলের আওতাধীন ফিয়াংয়ে অবস্থিত ডেজার্ট ফ্লাওয়ার স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর লেহর ডেপুটি কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার আগেই স্কুলের ক্লাশ ও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ প্রশাসনের। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আদালতের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্কুলের কার্যক্রম চালু করা যাবে না।
২০১৮ সালের মে মাসে লাদাখের ফিয়াং থাং এলাকায় ১ হাজার ৭৬ কানাল ও ১ মারলা জমি এইচআইএএলকে ৪০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইজারাসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেনি। এরপর প্রশাসন ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট জমি বরাদ্দ বাতিল করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এইচআইএএল হাইকোর্টে মামলা করেছে।
সোনম ওয়াংচুক দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের ২০ মে—জমি বরাদ্দের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে—ইজারার দলিল সম্পাদনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, তিনি পাঁচটি লিখিত আবেদন করেছেন, ১৫ বার দপ্তরে গেছেন এবং ৩০ বার ফোন করেছেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া একটি সরকারি চিঠিতে লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরের সময়কার প্রশাসনিক জটিলতা এবং করোনা মহামারির কারণে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল।
"আমি দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলছি। প্রশাসনের কারণে আমাদের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। জমি নিয়ে বিরোধের আড়ালে আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে"
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমি বরাদ্দের শর্ত পূরণ না হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ইজারার দলিল সম্পাদন এবং নির্ধারিত ভূমিমূল্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এক বছরের মধ্যে পূরণ না করায় ২০১৯ সালের মে মাসেই জমি বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এছাড়া, লাদাখের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের একটি প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়েছে, এইচআইএএল কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় নয় এবং তাদের কোর্সগুলোর আইনগত অধিভুক্তিও নেই।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লেহ, লাদাখ (ফিয়াং থাং এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোনম ওয়াংচুক, ড. গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো, লেহ তহসিলদার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ৭৬ কানাল জমি, ৪০ বছর ইজারা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২১ আগস্ট, ১৩৬ পৃষ্ঠার হলফনামা, ২০ মে (জমি বরাদ্দের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন), ১৫ বার দপ্তরে গেছেন, ৩০ বার ফোন করেছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!