📌 ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পূর্বাভাসে জানা গেছে, ২০২৬ সালে ভারতের স্বর্ণ চাহিদা ৬৫০ মেট্রিক টনে নেমে আসতে পারে — যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। উচ্চমূল্য, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ পড়ায় গয়না কেনার প্রবণতা কমবে
২০২৬ সালে ভারতের স্বর্ণ চাহিদা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই বছরে ভারতের স্বর্ণের মোট চাহিদা প্রায় ৬৫০ মেট্রিক টনে দাঁড়াবে, যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। করোনা মহামারির কারণে সে বছর গয়নার দোকান বন্ধ থাকায় চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। বিশ্বে চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ ভোক্তা ভারত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৬ সালে ভারতের স্বর্ণ চাহিদা ৬৫০ মেট্রিক টনে নেমে আসবে — যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন
- 📌 জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে স্বর্ণ চাহিদা ২৯ শতাংশ কমে ১৬২.৫ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে
- 📌 গয়না কেনার চাহিদা ২০ শতাংশ, বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনা ৪০ শতাংশ কমেছে
- 📌 গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপের কারণে স্বর্ণ কেনার সক্ষমতা কমতে পারে
- 📌 শুল্ক বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণ আমদানিতে অনানুষ্ঠানিক পথ বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ভারতীয় কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সচিন জৈন বলেছেন, বছরের প্রথম নয় মাসে গয়নার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই প্রবণতা পুরো বছরের স্বর্ণ বাজারে প্রভাব ফেলবে। তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ভারতের স্বর্ণ চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কমে ১৬২.৫ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গয়না কেনার চাহিদা ২০ শতাংশ এবং বিনিয়োগের জন্য স্বর্ণ কেনার প্রবণতা ৪০ শতাংশ কমেছে।
ডব্লিউজিসি মনে করছে, ডিসেম্বর মাসে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। দীপাবলি এবং বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাড়ে। তবে উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপের কারণে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। ভারতের স্বর্ণ চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি আসে গ্রামীণ এলাকা থেকে। এখানে স্বর্ণের গয়না ঐতিহ্যবাহী সম্পদ সঞ্চয় মাধ্যম।
২০২৬ সালে ভারতের মৌসুমি বৃষ্টিপাত এক দশক ধরে সবচেয়ে কম হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও কমেছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় স্বর্ণ কেনার সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
স্বর্ণ আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সচিন জৈন জানান, মে মাসে সরকার স্বর্ণ আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পর অনানুষ্ঠানিক পথে স্বর্ণের প্রবেশ বেড়েছে।
"বছরের প্রথম নয় মাসে গয়নার চাহিদা কমেছে। এর প্রভাব পড়বে পুরো বছরের স্বর্ণের বাজারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সচিন জৈন (ডব্লিউজিসি ভারতীয় কার্যক্রমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫০ মেট্রিক টন (স্বর্ণ চাহিদা), ২৯ শতাংশ (চাহিদা কমে গেছে), ১৬২.৫ মেট্রিক টন (জুলাই-সেপ্টেম্বর চাহিদা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!