📌 ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাত বিস্তৃত হলে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা 'ড্রাফট' চালুর আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ধরন বিবেচনায় সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সম্ভাবনা কম
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে, যার ফলে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের আলোচনা শুরু হয়েছে।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিলের ঘটনা ইরান সংঘাতের সাথে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৩ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে, তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো সংঘাতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের সম্ভাবনা বিবেচিত হচ্ছে।
- 📌 সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ধরন বিবেচনায় সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রয়োজন কম।
- 📌 যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে ৬৫ বছর পর্যন্ত।
📰 বিস্তারিত
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা জাগ্রত হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিলের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইরান পরিস্থিতির সাথে এই বাতিলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য সংঘাত বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদেরও বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হতে পারে।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের আইওয়া ও কানসাসে নির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করা হয়েছিল। একই সময়ে ভ্যান্সের মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউডে ‘ওয়ার অন ফ্রড’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। তবে কর্মসূচি বাতিলের কারণ হিসেবে ইরান পরিস্থিতির কোনো সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমাবেশগুলো টেলিফোনের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাতিল করা হয়েছিল। পরে আইওয়া ও কানসাসের সমাবেশ আবারও আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যদিকে ভ্যান্সের মিনেসোটা সফর বাতিলের কারণও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধে সেনারা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হলে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় লটারি পদ্ধতিতে সেনা নিয়োগের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সে সময় ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী পুরুষদের জন্মতারিখের ভিত্তিতে লটারির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য বাছাই করা হতো। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ চালুর কোনো ঘোষণা নেই। দেশটির সামরিক বাহিনী ১৯৭৩ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রায় সব পুরুষ নাগরিক ও নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীর জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে এই নিবন্ধন সামরিক বাহিনীতে যোগদানের নির্দেশ নয়। জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সম্ভাব্য সেনা নিয়োগের জন্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির ব্যবস্থা এটি।
সামরিক কৌশল বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার লির মতে, ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রায় নয় বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ লাখ পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল। এ সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ ছিল। তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ধরন বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তিনি। ক্রিস্টোফার লির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ ও বিমান অভিযানই সংঘাতের প্রধান অংশ হতে পারে। ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতির বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির চারটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিনের মধ্যে তিনটি একই সময়ে সমুদ্রে অবস্থান করছে। এ ঘটনাকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে সেনাবাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। সাবেক ব্রিটিশ সেনাপ্রধান লর্ড ড্যানাটের মতে, বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ সদস্যদের কাজে লাগানো হতে পারে। এরপর নিয়মিত রিজার্ভ সদস্যদের ফিরিয়ে আনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।
"ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক স্বার্থে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধে সেনারা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, ক্রিস মারফি, ক্রিস্টোফার লি, লর্ড ড্যানাট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ (বছর), ২৬ (বছর), ১৮ লাখ (পুরুষ), ৭ শতাংশ (জনসংখ্যা), ৫৫ (বয়স), ৬৫ (বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!