📌 মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) রামচন্দ্র ও কৃষ্ণের তুলনা করে ‘রাম সোজা, কৃষ্ণ বাঁকা’ মন্তব্য দিয়েছেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে বিতর্ক জোরদার হয়েছে
মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রামচন্দ্র ও কৃষ্ণের তুলনা করে ‘রাম সোজা, কৃষ্ণ বাঁকা’ মন্তব্য দিয়েছেন। এই বিতর্কিত কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেশ্বর বাবা বলেছেন, ‘তোমাদের কৃষ্ণ বাঁকা, আমাদের রাম সোজা’ — রামচন্দ্রের শারীরিক ভঙ্গি ও আচরণকে ‘সোজা’ বলে বর্ণনা করেছেন, কৃষ্ণেরকে ‘বাঁকা’ হিসেবে তুলনা করেছেন।
- 📌 তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের ভগবানের দাঁড়ানো, হাঁটা ও বাঁশি বাজানোর ভঙ্গিও বাঁকা’ — কৃষ্ণের কাজকর্মের তুলনা করে বলেছেন, ‘গরু চরানো সহজ, কিন্তু বানরদের সংগঠিত করা সহজ নয়’।
- 📌 ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া — সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
- 📌 বাগেশ্বর বাবা নিজে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, বলেছেন, ‘ভক্তির আবেগে কথাগুলো বলেছিলাম’ — তবে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
- 📌 গত সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি হিন্দুদের পূজা রীতি নিয়ে তাঁর মন্তব্যেও ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরা এলাকায় অনুষ্ঠিত ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবা রামচন্দ্র ও কৃষ্ণের তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ অত্যন্ত বাঁকা, এমনকি তাঁর নামটাও বাঁকা। আমাদের রামচন্দ্র অত্যন্ত সাদাসিধে। তিনি সোজা হাঁটেন, সোজা বসেন এবং তাঁর দৃষ্টিও সোজা’। তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমাদের ভগবানের দাঁড়ানো, হাঁটা এমনকি বাঁশি বাজানোর ভঙ্গিও বাঁকা—তিন জায়গা থেকে বাঁকানো। আর আমাদের ভগবান সোজা দাঁড়ান। আমাদের ভগবানের ধাম অযোধ্যাও সোজা, কিন্তু তোমাদের ধাম বৃন্দাবন’।
বাগেশ্বর বাবা রাম ও কৃষ্ণের কাজের তুলনা করে বলেছেন, ‘গরু চরানো বা বাঁশি বাজানো সহজ কাজ, কিন্তু ধনুক চালানো কিংবা বানরদের সংগঠিত করা সহজ খেলা নয়’। এই মন্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর কথাকে ভগবান কৃষ্ণের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিতর্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর বাগেশ্বর বাবা একটি ভিডিও বার্তায় নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভক্তির আবেগে ভেসে গিয়ে আমি কথাগুলো বলেছিলাম। আমার বক্তব্যের ভুল অর্থ বের করা হচ্ছে। আমি নিজে শ্রীকৃষ্ণের বিরোধী নই, আমার নিজের নামের মধ্যেও কৃষ্ণের নাম রয়েছে’। তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘ভগবানের গুণগান গাওয়ার সময় বা অনুভূতির গভীরতা থেকে কথাগুলো বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও যদি আমার কথায় কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী’।
বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যগুলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে এবং ধর্মীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে এসে বাঙালি হিন্দুদের পূজায় আমিষ খাওয়া ও নৈবেদ্য হিসেবে আমিষ দেওয়ার রীতি নিয়ে তিনি কড়া মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘দুর্গা প্যান্ডেলের পেছনে অথবা মঞ্চের নিচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। এদের ধার্মিক বলা যায়? আমি চাই এদের ধার্মিক নয়, পাখণ্ডি (ভণ্ড) বলে ডাকা হোক’। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
"তোমাদের ভগবান কৃষ্ণ অত্যন্ত বাঁকা, এমনকি তাঁর নামটাও বাঁকা। আমাদের রামচন্দ্র অত্যন্ত সাদাসিধে। তিনি সোজা হাঁটেন, সোজা বসেন এবং তাঁর দৃষ্টিও সোজা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলা, করেরা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (বিতর্কের ঘটনা: ১. রাম-কৃষ্ণ তুলনা, ২. পশ্চিমবঙ্গের পূজা রীতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!