📌 যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়া আগুন দেশটির প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই অভিযোগ তুলেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ছড়িয়ে পড়া আগুন দেশটির প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধ্বংস করার দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি অভিসন্ধির অংশ বলে দাবি করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করলে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়
- 📌 লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্স প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়
- 📌 যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের জলপাইবাগান ও কৃষিজমিতে ক্রমাগত আগুন লাগিয়ে চলেছে
- 📌 গত শুক্রবার ইসরায়েলি গোলায় ঘন বনাঞ্চল পরিবেষ্টিত দুটি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল সৃষ্টি হয়
- 📌 পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন সাউদার্নার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস এ হামলাকে ‘ইকোসাইড’ বা ‘পরিবেশগত হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন
📰 বিস্তারিত
গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম এলাকার বাইরের একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করলে সেখানে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের সিভিল ডিফেন্সের প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যখন সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁদের খুব কাছে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন।
হুসেইন ফাকিহ বলেন, ‘আমাদের এখনকার বেশির ভাগ অভিযানই আগুন নেভানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিশাল এলাকার বন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সীমান্ত বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতির পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী এ কাজ শুরু করেছে। প্রতিদিন সেখানে অগ্নিবোমা ফেলা হচ্ছে। ছোট ছোট ড্রোন এসে ওপর থেকে দাহ্য পদার্থ ছড়াচ্ছে, বনাঞ্চল লক্ষ্য করে সাদা ফসফরাস শেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে।’
গত শুক্রবার ইসরায়েলি গোলায় ঘন বনাঞ্চল পরিবেষ্টিত দুটি বড় এলাকায় ভয়াবহ দাবানল সৃষ্টি হয়। এর একটি সীমান্তসংলগ্ন কাফরশুবা এলাকায় এবং অন্যটি জেজ্জিন ও পশ্চিম বেকা উপত্যকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে। কাফরশুবা এলাকার সিভিল ডিফেন্স স্টেশন প্রধান সমীর হারদান জানান, গত শুক্রবার বিকেলে একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গোলাবারুদ ফেলার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সারা রাত লড়াই করে গত শনিবার সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সমীর হারদান আরও জানান, এরপর গত রোববার আরেকটি ড্রোন এসে ওই এলাকায় নতুন করে আগুন লাগিয়ে দেয়।
‘এগুলো বহু বছরের পুরোনো প্রাচীন বন। সেখানে ওকগাছের পাশাপাশি মূলত বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনশীল পাইনগাছের প্রাধান্য রয়েছে। এই বনাঞ্চল পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া এ বিশাল এলাকাটি পরিযায়ী পাখিদের যাতায়াত ও বিশ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।’
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন সাউদার্নার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিশাম ইউনেস এ ইসরায়েলি হামলাকে ‘ইকোসাইড’ বা ‘পরিবেশগত হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, গোলাবারুদ, আগুন ও রাসায়নিক ব্যবহার করে দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করা হচ্ছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ লেবানন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুসেইন ফাকিহ, সমীর হারদান, হিশাম ইউনেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!