📌 আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশটি 'বালকানায়েশন'-এর ঝুঁকিতে থাকবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো দেশের একত্রীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে।
ইরাকের রাজনৈতিক একত্রীকরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশটি 'বালকানায়েশন'-এর ঝুঁকিতে পড়বে। এই সতর্কবার্তা তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির প্যালেস হোটেলে সংযুক্ত জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের সময় রিপোর্টারদের সাথে কথা বলেন। তিনি এসেছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির সাথে সাক্ষাৎ করার পর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির সাথে নিউ ইয়র্ক সিটিতে সাক্ষাৎ করেন এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশটি 'বালকানায়েশন'-এর ঝুঁকিতে থাকবে বলে সতর্কবার্তা দেন।
- 📌 রুবিও বলেন, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা করে, যা দেশের একত্রীকরণে বাধা সৃষ্টি করছে।
- 📌 ইরাকের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেইদন আলকিনানি মন্তব্য করেন, রুবিওর সতর্কবার্তা ইরাক সরকারকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য চাপ দেওয়ার একটি উপায় হতে পারে।
- 📌 রুবিও বলেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু এই প্রক্রিয়া আগের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে।
- 📌 ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশটি একটি কেন্দ্রীয়তাবাদী, স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে না, যা ইরানের প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির সাথে নিউ ইয়র্ক সিটিতে সংযুক্ত জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের সময় সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎের সময় তিনি ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশটি 'বালকানায়েশন'-এর ঝুঁকিতে থাকবে বলে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে একটি বিশাল এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।
রুবিও বলেন, অন্তত তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে জাতীয় সরকারের সাথে যুক্ত হয়েছে, কিন্তু অন্তত একটি গোষ্ঠী এখনও সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। তিনি বলেন, সকল অস্ত্র কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, যাতে ইরাকে আর স্বাধীনভাবে কাজ করা সশস্ত্র গোষ্ঠী না থাকে, যা দেশের বিভাজনকে বাড়িয়ে তুলবে।
ব্রিটিশ সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো বুর্চু ওজসেলিক বলেন, রুবিও ইরাকের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দ্বারা সৃষ্ট 'ফ্র্যাকচার' বা বিভাজনকে বোঝাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীগুলো একে অপরের প্রতিযোগী হলেও, তারা ইরানের আগ্রহের জন্য ইরাকের মধ্যে অর্থনৈতিক চ্যানেল, রাজনৈতিক প্রভাব এবং তেল চুরির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।
ইরাকের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জেইদন আলকিনানি রুবিওর সতর্কবার্তার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, রুবিওর সতর্কবার্তা ইরাক সরকারকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য চাপ দেওয়ার একটি উপায় হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিষ্ক্রিয় করা ইরাকের ২০০৩ সালের আমেরিকান আক্রমণ, ২০০৬-২০০৭ সালের ধর্মীয় সংঘাত, ২০১৪-২০১৭ সালের আইএসআইএসের যুদ্ধ এবং ২০১৭ সালের কুর্দিস্তান স্বাধীনতা রেফারেন্ডামের মতো অন্যান্য চ্যালেঞ্জের তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হলেও, এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়।
রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আল-জায়েদির সাথে সাক্ষাৎ করেন। আল-জায়েদির কার্যালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং অঞ্চলীয় নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
"ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দেশটি 'বালকানায়েশন'-এর ঝুঁকিতে থাকবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউ ইয়র্ক সিটি, প্যালেস হোটেল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কো রুবিও, আলি আল-জায়েদি, বুর্চু ওজসেলিক, জেইদন আলকিনানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিষ্ক্রিয় হয়েছে, ১টি এখনও সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!