📌 ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ সোমবার শেষ হচ্ছে। দুই দেশই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছেন
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আগামী সোমবার শেষ হতে যাচ্ছে। দুই দেশই একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করলেও কোনো পক্ষই চুক্তি পুনর্নবীকরণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, "আমরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিইনি।"
এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। আরাঘচি আরও জানান, ইরান ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালীর নতুন শিপিং রুট নিয়ে আলোচনা করছে, তবে তা রাজনৈতিক সমাধানের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শীঘ্রই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আগামী সোমবার শেষ হচ্ছে
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়নি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছেন
- 📌 ইরান ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নতুন শিপিং রুট নিয়ে আলোচনা করছে
- 📌 চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল ৩০ দিনের মধ্যে
- 📌 ইরানকে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ ও ৬০ দিন ধরে জাহাজ চলাচল বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল
📰 বিস্তারিত
২০২৬ সালের ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত বিরল উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল তিন মাসের যুদ্ধ বন্ধ করা, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল এবং বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছিল।
চুক্তি অনুসারে দুই দেশই সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দ্বারা অনুমোদিত একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানোর কথা ছিল, যা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল ৩০ দিনের মধ্যে। ইরানকে হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণ ও ৬০ দিন ধরে জাহাজ চলাচল বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছিল।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই দুই দেশ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। ২৭ জুন ট্রাম্প ইরানের আঞ্চলিক হামলাকে চুক্তির "নির্বুদ্ধিত লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেন। ইরান দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চুক্তির প্রথম ধারার লঙ্ঘন। ৭ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন চুক্তি "শেষ হয়ে গেছে" এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে।
"আমরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিইনি।"
"দুই পক্ষ সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ দিন, ৩০ দিন, ৩০০ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!