📌 ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০১ ডলারে উঠে গেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে পৌঁছেছে। গতকালই এই দামের সীমা অতিক্রম করেছিল। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে উঠেছে — গতকাল ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ দৈনিক ২ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে।
- 📌 গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে কোনো অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার করতে পারেনি।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।
- 📌 ইরান জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জুলাই মাসে বিশ্বে দৈনিক ২৭ লাখ ব্যারেল তেলের মজুত কমেছে।
- 📌 বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত। গতকালই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। আজ দিনের শুরুতে দাম আরো বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
গত আগস্টের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ হচ্ছিল। কিন্তু সংঘাতের কারণে সরবরাহ দৈনিক ২ মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনের চলতি গড় সরবরাহও কমে দাঁড়িয়েছে ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেলে। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানের এক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তত কমে আসবে। সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে বিশ্ব এখন বিভিন্ন দেশের তেল মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করছে। কিন্তু এসব মজুত সীমাহীন নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিশ্বে দৈনিক ২৭ লাখ ব্যারেল তেলের মজুত কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকলে এই মজুত কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিকল্প পথে তেল সরবরাহের প্রচেষ্টা চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পাঠাচ্ছে। ইরাক পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তেল পাঠাচ্ছে। সৌদি আরবও ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে তেলের প্রবাহ ঘুরিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে পারছে। তবে এসব বিকল্প পথও ঝুঁকির মুখে আছে। ইয়েমেনের হুতিরা এ বছর সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
"বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বছরের শেষ প্রান্তিকে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে দাম আরও বাড়তে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, জর্ডান (মার্কিন ঘাঁটি), মার্কিন ঘাঁটি, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকার, তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (রিস্টাড এনার্জি, কেপলার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০১ ডলার (ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম), ২ মিলিয়ন ব্যারেল (সরবরাহের কমে যাওয়া), ৫ মিলিয়ন ব্যারেল (সাত দিনের গড় সরবরাহ), ২৭ লাখ ব্যারেল (মজুত কমে যাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!