📌 সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন বনদস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা জমা দেন ১৩টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। কোস্ট গার্ডের অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যু আটক ও ৪২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে
সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন সক্রিয় বনদস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোংলা কোস্ট গার্ড বেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়। আত্মসমর্পণকারীদের হাতে ছিল ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি, যা তারা কোস্ট গার্ডকে জমা দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন বনদস্যু কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন
- 📌 তারা জমা দেন একটি এইট শুটার, সিক্স শুটার, ফোর শুটার, সাইড হ্যামার, বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, এমথ্রি গ্যাস গান, ৭.৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ওয়ান শুটার ও এয়ারগানসহ ১৩টি অস্ত্র
- 📌 আত্মসমর্পণকারীদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়
- 📌 কোস্ট গার্ডের ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এ এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যু আটক ও ৪২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে
- 📌 আত্মসমর্পণকারীদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে
📰 বিস্তারিত
কোস্ট গার্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন জানান, সুন্দরবনের দস্যু দমনে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। তিনি জানান, এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। কোস্ট গার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
"সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এতে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং ৪২ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা, মোংলা কোস্ট গার্ড বেজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন, কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন বনদস্যু, ১৩টি অস্ত্র, ২১২ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২৯ জন আটক, ৪২ জন জিম্মি উদ্ধার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!