📌 ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণকাজ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএসের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং গোপনভাবে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য পরীক্ষা চালাচ্ছে
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে যুক্ত একটি সন্দেহভাজন স্থাপনায় নির্মাণকাজে ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং গোপনভাবে ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার জন্য সামরিক পরীক্ষা চালাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামের ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নির্মাণকাজে ‘স্পষ্ট বৃদ্ধি’ লক্ষ্য করা গেছে। এটি তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে।
- 📌 মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএসের বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই স্থাপনাটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- 📌 ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ধারণা করছে, ইরান সম্ভবত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের জন্য সেন্ট্রিফিউজগুলো এই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি’। তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, এই স্থাপনায় হামলা চালানো কঠিন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র গোপনভাবে ‘নেক্সট জেনারেশন পেনিট্রেটর’ বোমা তৈরির কাজ করছে, যা ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের একটি অপরিচিত সংস্থা ১২ লাখ ডলারের একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে, যা ‘দ্রুত উদ্ভূত হুমকির বিরুদ্ধে গোপন সক্ষমতা’ যাচাই করার জন্য।
- 📌 ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে হামলা চালিয়েছিল, কিন্তু গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলার সময় ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক নির্মাণকাজ হয়েছে। সিএসআইএসের বিশ্লেষকরা ছয় বছরের স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে এই তথ্য জানিয়েছেন। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামের এই স্থাপনাটি ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে, তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। পশ্চিমা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থাপনাটি নিয়ে আলোচনা করে আসছে। তাদের ধারণা, এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হতে পারে।
সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থাপনাটি সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ধারণা করছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরান তার সেন্ট্রিফিউজগুলো এই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার এই স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি’। তিনি আরও বলেন, ‘কে কে সেখানে যাতায়াত করছে, আমরা সবাইকে জানি’।
তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, গ্রানাইটের এই পাহাড়টি এমন একটি কঠিন লক্ষ্য, যাতে পেন্টাগনের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক’ বোমা দিয়েও হামলা চালানো কঠিন। বর্তমান প্রজন্মের অস্ত্রের নাগালের বাইরে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে ইরানের আরও কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনাকেও। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘নেক্সট জেনারেশন পেনিট্রেটর’ বোমা তৈরির কাজ করছে, যা গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি অপরিচিত সংস্থা, ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি (ডিটিআরএ) ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ফেডারেল ডাটাবেসে একটি চুক্তি আপলোড করে। এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, একটি ‘বিশেষ ভূগর্ভস্থ পরীক্ষাকেন্দ্র’ মেরামতের জন্য ১২ লাখ ডলারের একটি চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে। এই কাজের উদ্দেশ্য ছিল ‘দ্রুত উদ্ভূত হুমকির বিরুদ্ধে গোপন সক্ষমতা’ যাচাই করা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক দিন আগে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি, এই নথিটি প্রকাশ্যে আসে। নথিতে বলা হয়, ‘দ্রুত পরীক্ষার প্রস্তুতি’ শেষ করতে হবে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে।
"আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি। কে কে সেখানে যাতায়াত করছে, আমরা সবাইকে জানি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (ইরান), নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্স, তেহরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট), সিএসআইএস বিশ্লেষকরা, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪০ মাইল (পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন থেকে তেহরানের দূরত্ব), ১২ লাখ ডলার (চুক্তির মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!