📌 স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান আকস্মিক পরিদর্শনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে ভুয়া নথি ও অনিয়মের জন্য সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার কাজগুলো ক্রাইম’। প্যাথলজি বিভাগে দৈনিক মাত্র ৩০-৩৯টি পরীক্ষা হওয়ার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান। নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করে গত বুধবার রাতে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তিনি অব্যবস্থাপনা, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম এবং প্যাথলজি বিভাগের অকার্যকর কার্যক্রমের চিত্র দেখতে পান। পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুয়া নথি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যা করছেন, এগুলো ক্রাইম—আর এর পূর্ণ দায় আপনার।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান।
- 📌 তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানিকে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
- 📌 প্যাথলজি বিভাগে দৈনিক মাত্র ৩০ থেকে ৩৯টি পরীক্ষা হওয়ার বিষয়েও এডিজি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
- 📌 রোগীদের খাবার সরবরাহে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এডিজি বলেন, ‘দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
- 📌 জেলা পর্যায়ের ১০০ শয্যার হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা ‘বিশৃঙ্খল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান গত বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করে ঢাকায় ফিরতে হওয়ায় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি হাসপাতালে উপস্থিত হন। পরিদর্শনের সময় তিনি জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওষুধ সংরক্ষণাগার ও প্যাথলজি বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগীদের খাবার সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের সত্যতা পান। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম দেওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
প্যাথলজি বিভাগ পরিদর্শনে গিয়ে এডিজি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জেলা পর্যায়ের ১০০ বা তারও বেশি শয্যার একটি বড় সরকারি হাসপাতালে দৈনিক গড়ে মাত্র ৩০ থেকে ৩৯টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা হওয়ার তথ্য দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নথিপত্র পর্যালোচনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্বাক্ষর না থাকায় সেখানে কাল্পনিক ও ভুয়া তথ্য লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন। অটোমেশন প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে এমন অকার্যকর ব্যবস্থা কেন চালু রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
তদারকির সময় তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসকে কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।’ প্যাথলজির রেজিস্টারে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি তত্ত্বাবধায়কের উদ্দেশে বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে খাতায় ভুয়া তথ্য লেখা অপরাধের শামিল। আপনি যা করছেন, এগুলো ক্রাইম—আর এর পূর্ণ দায় আপনার।’
"আপনি যা করছেন, এগুলো ক্রাইম—আর এর পূর্ণ দায় আপনার"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান (এডিজি), ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস (তত্ত্বাবধায়ক), ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি (আরএমও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০-৩৯টি প্যাথলজি পরীক্ষা, ১০০+ শয্যা, ২৮টি জেলায় চিকিৎসক নিয়োগ সম্পন্ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!