📌 বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাহির দুই হাজার টাকা প্রয়োজনে ফোনে কথা বলেন বাবাকে। সেই টাকা পাঠানোর পর বাবার মানিব্যাগ প্রায় খালি হয়ে যায়। কিন্তু সন্তানের স্বপ্ন যেন থেমে না যায় সেজন্য নিজের প্রয়োজনকে পিছিয়ে দেন তিনি
রাত সাড়ে এগারোটা। ঢাকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয় হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে মাহি আকাশ দেখছিল। চারপাশে বন্ধুদের গল্পগুজব, গিটার থেকে ভেসে আসা সুর আর পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কিন্তু তার মন ভার হয়ে ছিল নিজের হাতে থাকা ফোনটির কারণে। মাসের শেষে হাতে টাকা নেই। বাড়িতে ফোন করার সিদ্ধান্ত নিতে অনেকক্ষণ সময় লাগল তার। অবশেষে ডায়াল করলেন নম্বরটা। তিনবার রিং হওয়ার পর ঘুমজড়ানো কণ্ঠে ওপাশ থেকে এলো প্রশ্ন, ‘হ্যালো, মা?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাত সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাহি দুই হাজার টাকা চেয়ে বাবাকে ফোন করেন
- 📌 বাবা মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন
- 📌 পরদিন সকালে টাকা পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান মাহি
- 📌 সেই দুই হাজার টাকা পাঠানোর পর বাবার মানিব্যাগ প্রায় খালি হয়ে যায়
- 📌 বাবা নিজের প্রয়োজনকে পিছিয়ে দিয়ে সন্তানের স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দেন
📰 বিস্তারিত
মাহির ফোনে তিনবার রিং হওয়ার পর ঘুমজড়ানো কণ্ঠে ওপাশ থেকে প্রশ্ন আসে, ‘হ্যালো, মা?’। তারপর মাহি খুব আস্তে বলেন, ‘বাবা...পকেটে টাকা আছে?’। কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর বাবা উত্তর দেন, ‘আছে তো মা। কত লাগবে?’। মাহি জানান দুই হাজার টাকা প্রয়োজন। বাবা সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দেন এবং জানান পরদিন সকালে টাকা পাঠিয়ে দেবেন।
পরদিন সকালে মাহির ফোনে টাকা চলে আসে। তিনি আর কিছু না ভেবে বন্ধুদের সঙ্গে নাশতা করতে যান, ক্লাসে অংশ নেন এবং বিকেলে ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করেন। রাতের দিকে রুমে ফিরে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনটা তার কাছে অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু তিনি জানতেন না, সেই দুই হাজার টাকা পাঠানোর পর তার বাবার মানিব্যাগ প্রায় খালি হয়ে গিয়েছিল।
বাবা মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই টাকা পাঠানোর পর তিনি আবার মানিব্যাগটা খুলে দেখেন। ভেতরে পড়ে ছিল কয়েকটা খুচরা টাকা আর একটা পুরোনো পাঁচ শ টাকার নোট। তিনি নোটটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। তারপর খুব আস্তে মানিব্যাগটা বন্ধ করে রেখে দেন। পরদিন সকালে বাজারে যাওয়ার সময় পকেটে হাত দিয়ে তিনি নিজেই হেসেছিলেন।
এক শুক্রবার দুপুরে বাবা মাহিকে ফোন করেন। মাহি জানান, তিনি খেয়েছেন এবং রুমে আছেন। বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর প্রশ্ন করেন, ‘টাকা লাগবে?’। মাহি হেসে উত্তর দেন, ‘না বাবা, এই তো দিয়েছো। এখন আর লাগবে না।’। বাবা আরও কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর বলেন, ‘আচ্ছা।’। ফোন কেটে যাওয়ার পরও মেয়ের কণ্ঠটা যেন তার কানে বাজছিল। তিনি ফোনটা টেবিলে রেখে জানালার বাইরে তাকালেন। বিকেলের রোদ উঠানের এক পাশে পড়েছিল। সেই উঠানেই মেয়েটা ছোটবেলায় খেলত।
“বাবারা বোধ হয় একটা শব্দ খুব ভালো জানেন ‘চলবে।’ নিজের জন্য কম পড়লে চলবে। জুতাটা আরেকটু পুরোনো হলে চলবে। জামাটা আরেক বছর পরলে চলবে। ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা কয়েক দিন পিছিয়ে দিলে চলবে। কিন্তু সন্তানের কোনো প্রয়োজন যেন না থামে। সন্তানের পড়াশোনা যেন না থামে। সন্তানের স্বপ্নের সামনে যেন কোনো দিন ‘টাকা নেই’ কথাটা না দাঁড়ায়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহি ও তার বাবা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই হাজার টাকা, সাড়ে এগারোটা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!