📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালালে পাল্টা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটি নতুন যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালালে পাল্টা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি গত রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘শত্রুপক্ষই যুদ্ধ শুরু করেছে। আমাদের কর্মকাণ্ড এত দিন প্রতিরক্ষামূলক ছিল। এখন তা আক্রমণাত্মক রূপও নিতে পারে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষকে ‘কৌশলগত চমক’-এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান প্রতিহত করতে নতুন যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করেছে
- 📌 আইআরজিসির প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি জানান, প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে
- 📌 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশে সামরিক পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা করলে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান
- 📌 ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি জানান, ইরানে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা পদে নিয়োগ দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আইআরজিসির নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময় খামেনি বলেন, ‘শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। গত জুনে যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার পর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত ভেঙে পড়েছে। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর মেয়াদ শেষ হয়েছে।
ইরানের আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাতে পারে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালালে জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায় স্থল অভিযান চালাতে পারে তেহরান।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি জানান, ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালানোর পর কেউ কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করতে পারলে তাঁকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এ কাজ করতে পারলে তাঁকে দেওয়া হবে দ্বিগুণ পুরস্কার। তিনি বলেন, ‘যারা ইরানে হামলা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে।’
‘শত্রুপক্ষই যুদ্ধ শুরু করেছে। আমাদের কর্মকাণ্ড এত দিন প্রতিরক্ষামূলক ছিল। এখন তা আক্রমণাত্মক রূপও নিতে পারে।’ — ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি, আইআরজিসির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোজতবা খামেনি, ইয়াদোল্লাহ জাভানি, হোসেইন মোহেব্বি, আমির হাতামি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৩০ হাজার ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!