📌 ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি তেহরান। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেনি তেহরান। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা স্থবির রয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত এখনো নিইনি।" তিনি ইরানি সংবাদমাধ্যম শহরারা নিউজকে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি তেহরান
- 📌 হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন
- 📌 ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানেরই থাকবে
- 📌 আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়েছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র নতুন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত এখনো নিইনি।" তিনি ইরানি সংবাদমাধ্যম শহরারা নিউজকে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আরাঘচি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর যুক্তরাষ্ট্রের কারণে আবারও সহিংসতা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নতুন পথ নির্ধারণ করতে হবে।
হরমুজ প্রণালীতে নতুন শিপিং রুট স্থাপনের জন্য ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তবে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর। আরাঘচি বলেন, "পূর্বে যে রুটগুলো ছিল, সেগুলো আর কার্যকর নেই। নতুন একটি রুট নির্ধারণ করতে হবে। আমরা বর্তমানে একটি অস্থায়ী রুট ডিজাইন করছি, যা পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত রুটে পরিণত হবে।"
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই দিনে ঘোষণা দেন, "আমরা ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করব।" এর জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এক্স প্ল্যাটফর্মে বলেন, "হরমুজ প্রণালী ইরানেরই রয়েছে, রয়েছে এবং থাকবে।"
"আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত এখনো নিইনি।"
"এটি আলোচনা নয়।"
"পূর্বে যে রুটগুলো ছিল, সেগুলো আর কার্যকর নেই। নতুন একটি রুট নির্ধারণ করতে হবে। আমরা বর্তমানে একটি অস্থায়ী রুট ডিজাইন করছি, যা পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত রুটে পরিণত হবে।"
হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়। এটি গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘটা একাধিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা।
ছয় মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নেতৃত্ব উৎখাত বা হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এখন অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, "এটি হবে বিশ্ব দেখতে পায়নি এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ, যার ফলে ইরানের বন্দরে কোনো কিছু প্রবেশ বা বের হতে পারবে না।"
আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গোপন অর্থ স্থানান্তরে ব্যবহৃত মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এবং কাগুজে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়। বেসেন্ট বলেন, "ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ফিউরি’র মুখে ধসে পড়ছে, এবং শাসকগোষ্ঠী অর্থ স্থানান্তরের উপায় হারিয়ে ফেলছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের ওপর ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট বারবার ব্যাপক Destabilizing প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে, তবে কোনোটিই শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের মধ্যপ্রাচ্য নীতি উপদেষ্টা মার্ক গিন্সবার্গ আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যবহার করলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, "এটি মূলত অর্থনৈতিক চিকেন গেম। কোন পক্ষটি আগে সরে দাঁড়াবে? আমি মনে করি প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পিছু হটবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাঘচি, স্কট বেসেন্ট, ট্রাম্প, কাজেম ঘরিবাবাদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (তালিকা), ৬ (মাস), ১৯৭৯ (বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!