📌 ইরানে হিজাব আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জোরালো হলেও তরুণীরা প্রকাশ্যে তা অমান্য করছেন। সরকার যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও দমনাভিযান শুরু করতে সতর্ক। সামাজিক মাধ্যম ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে খোলা চুলে স্কুটার চালাচ্ছেন নারীরা
ইরানে হিজাব আইনের বিরুদ্ধে তরুণীদের প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। দেশটির রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো আইনটির কঠোর প্রয়োগের দাবি জানালেও সরকার যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের দমনাভিযান শুরু করতে পারেনি। রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানায়, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় সরকারপন্থী সমাবেশ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও অনেক নারীকে মাথা অনাবৃত অবস্থায় দেখা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো হিজাব আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছে
- 📌 যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সরকার দমনাভিযান শুরু করতে পারছে না
- 📌 গত ১৯ জুলাই তেহরানে অন্তত সাতটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ হিজাব আইন না মানার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়
- 📌 দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশে সামাজিক রীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০টি ক্যাফে বন্ধ করা হয়েছে
- 📌 চার বছর আগে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে
- 📌 সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তরুণীরা খোলা চুলে স্কুটার চালাচ্ছেন
- 📌 প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে মানুষের বিশ্বাস পরিবর্তন করা যায় না
📰 বিস্তারিত
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে তরুণীরা প্রকাশ্যে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক আইন অমান্য করছেন। দেশটির ইসলামি দণ্ডবিধির ৬৩৮ ধারায় জনসমক্ষে হিজাব না পরাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলেও সরকার যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক নারীকে মাথা অনাবৃত অবস্থায় দেখা গেছে।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই তেহরানে অন্তত সাতটি ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ হিজাব আইন না মানার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয়ও সম্প্রতি ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং ‘অপ্রচলিত’ পোশাক বিক্রি করা দোকানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশেও সামাজিক রীতি ও হিজাব আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০টি ক্যাফে বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি।
চার বছর আগে পুলিশ হেফাজতে তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে হিজাব বাধ্যতামূলক আইন অমান্যের প্রবণতা ব্যাপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে তরুণীরা স্কুটার চালাচ্ছেন—মাথায় হেলমেট থাকলেও অনেকের মাথায় নেই হিজাব। ইসফাহান ও শিরাজেও নারী মোটরসাইকেল আরোহীদের দলবদ্ধভাবে রাস্তায় চলাচলের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।
কট্টরপন্থীরা হিজাববিরোধী অবস্থানকে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, পশ্চিমা শক্তি ও ইসরায়েল ইরানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ দুর্বল করতে নারীদের পোশাককে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ভিন্ন অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতার হিজাব সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইন ও জোর করে কি মানুষের আচরণ বা বিশ্বাস পরিবর্তন করা সম্ভব?
"আচরণ পরিবর্তন মূলত সাংস্কৃতিক ও বিশ্বাসের বিষয়; বলপ্রয়োগ করে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টি করা যায় না।"
ইরানের জনগণ বর্তমানে ‘অনেক সমস্যার’ মুখোমুখি বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার সংকট ও বেকারত্ব কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, তেহরান, দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসউদ পেজেশকিয়ান, মাহসা আমিনির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩৮ (ধারা), ১৯ জুলাই, ২৩ আগস্ট, ৭টি ক্যাফে, ১০টি ক্যাফে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!