📌 ক্যালিফোর্নিয়ার একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান বিশেষ ধরনের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের ফলন ৪২ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানির ব্যবহার কমেছে ৩৪ শতাংশ
গাছের সঙ্গে কথা বলা বা গান শোনানোর প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন বিশেষ ধরনের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে গাছের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হাইভিয়া দাবি করেছে, তারা কোনো ধরনের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করেই শুধুমাত্র শব্দ শুনিয়ে গাছের ফলন অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্যালিফোর্নিয়ার স্টার্টআপ হাইভিয়া উদ্ভাবন করেছে বিশেষ ধরনের শব্দতরঙ্গ প্রযুক্তি, যা গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ শুনিয়ে গাছের ফলন ৪২ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব
- 📌 এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গাছের বৃদ্ধির সময়কাল ১৪ শতাংশ কমেছে এবং পানির ব্যবহার কমেছে ৩৪ শতাংশ
- 📌 গাছেরা চারপাশের কম্পন শনাক্ত করতে পারে, যা তাদের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে
📰 বিস্তারিত
হাইভিয়া নামের স্টার্টআপটি বায়োঅ্যাকোস্টিক কাল্টিভেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন প্রোটোকল নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আন্দ্রেয়া অট-ডাহল জানান, এটি কোনো সাধারণ মিউজিক নয়, বরং বিভিন্ন সাউন্ড এবং ফ্রিকোয়েন্সির একটি সুনির্দিষ্ট স্তর। এই শব্দতরঙ্গের মাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবেলের নিচে, যা যেকোনো সাধারণ স্পিকার দিয়েই বাজানো যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুঁয়োপোকা যখন পাতা খায়, সেই পাতা চিবানোর শব্দ বা কম্পন টের পেয়ে গাছেরা নিজেদের বাঁচাতে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করতে শুরু করে। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়েই হাইভিয়া তাদের প্রযুক্তি তৈরি করেছে। তারা সাতটি ভিন্ন প্রজাতির গাছের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ শুনিয়ে ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব।
একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। আরেকটি পদ্ধতিতে ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৯ শতাংশের বেশি, গাছের বৃদ্ধির সময়কাল কমেছে ১৪ শতাংশ, এবং পানির ব্যবহার কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তামাকজাতীয় গাছের ওপর তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন পরীক্ষায় দেখা গেছে, বিক্রয়যোগ্য ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ এবং পানি সাশ্রয় হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
"গাছের বৃদ্ধির কোন পর্যায়ে কী ধরনের ফলাফল দরকার, আমি ঠিক সেই ফ্রিকোয়েন্সিগুলোই বেছে নিয়েছি। চারাগাছের সময় মূল লক্ষ্য থাকে শিকড় বাড়ানোর দিকে, আবার পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে লক্ষ্য থাকে বেশি কুঁড়ি বা ফলন আনার দিকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 প্রতিষ্ঠান: হাইভিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ ডেসিবেল, ৪২ শতাংশ, ৫৯ শতাংশ, ১৪ শতাংশ, ৯০ শতাংশ, ৩৪ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!