📌 ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর পছন্দের শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন। 'অপারেশন ব্লু স্টার'-এর পরিপ্রেক্ষিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা ভারতের রাজনীতিতে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা করে
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের সূচনা হয় যখন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর পছন্দের শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন। 'অপারেশন ব্লু স্টার'-এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা ভারতের রাজনীতিতে এক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। সকাল সাড়ে সাতটায় ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি কালো পাড়ের গেরুয়া রঙের একটি শাড়ি পরে নাশতার পর মেকআপম্যানের হাতে সামান্য পাউডার ও ব্লাশার লাগিয়ে নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ইন্দিরা গান্ধী তাঁর বাসভবন থেকে বের হন তথ্যচিত্র নির্মাতা পিটার উস্তিনভের সাথে সাক্ষাৎের জন্য।
- 📌 প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তাঁর পছন্দের শিখ দেহরক্ষী নারায়ণ সিং এবং রামেশ্বর দয়াল, যারা পরপর ৩০টি গুলি চালিয়ে তাঁকে নিহত করেন।
- 📌 ইন্দিরা গান্ধী 'অপারেশন ব্লু স্টার'-এর পরিপ্রেক্ষিতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
- 📌 গোয়েন্দা সংস্থা তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন করার সুপারিশ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেছিলেন, 'আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই?'
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের রাজনীতিতে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং ৪৯২ জন শিখ নিহত হন।
📰 বিস্তারিত
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দিল্লির একটি সাধারণ সকালে ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু করেন। সকাল সাড়ে সাতটায় তিনি তাঁর বাসভবন থেকে বের হন। তাঁর পছন্দের শিখ দেহরক্ষী নারায়ণ সিং তাঁর পাশে ছাতা নিয়ে হাঁটছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী তাঁর ব্যক্তিগত সচিব আর কে ধাওয়ানের সঙ্গে কথা বলছিলেন যখন হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। পরপর তিনটি গুলি ছুঁড়ে দিলেন তাঁর দেহরক্ষীরা। সাবমেশিনগানের গর্জন শুনে লোকজন বিস্ফারিত চোখে দেখেন প্রধানমন্ত্রীকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে।
গোয়েন্দা সংস্থা ইন্দিরা গান্ধীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, 'আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই?' এই সিদ্ধান্তের মূল্য তিনি জীবন দিয়ে দিতে হয়। 'অপারেশন ব্লু স্টার'-এর পরিপ্রেক্ষিতে ইন্দিরা গান্ধী শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের রাজনীতিতে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের বিভিন্ন অংশে শিখদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হয়। ৪৯২ জন শিখ নিহত হন এবং ৩৮ জন রিভলবার দিয়ে গুলি চালানোর দায়ে অভিযুক্ত হন। এই ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা করে। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর তাঁর নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা এবং সাহসিকতার নাম-যশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে।
"আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ নই?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইন্দিরা গান্ধী, নারায়ণ সিং, রামেশ্বর দয়াল, পিটার উস্তিনভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০টি গুলি, ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪, ৯টা ১০ মিনিট, ৪৯২ জন নিহত শিখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!