📌 ভারতীয় ‘পরামর্শকরা’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে গোপনে হস্তক্ষেপ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় গোপন করে ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল ব্যবহার করে তারা রাজনীতিকদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। কেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত এই কার্যক্রমের বিস্তৃতি লক্ষ্য করা গেছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে গোপনে হস্তক্ষেপের কৌশল ব্যবহার করে ভারতীয় ‘পরামর্শকরা’ রাজনীতিকদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় গোপন রাখা অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার চালিয়ে তারা নির্বাচনী গণতন্ত্রের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। কেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত এই কার্যক্রমের বিস্তৃতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ভারতীয় ‘পরামর্শকরা’ নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২২ বছর বয়সী ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা রাজন কুমার** কেনিয়ার ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উইলিয়াম রুটোর পক্ষে গোপনে প্রচার চালিয়েছিলেন। দিনে ৮৭০ টাকা মজুরিতে তিনি ৫০টি পোস্ট তৈরি করতেন, যা পরিচয় গোপন রাখা অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
- 📌 **বিরোধী নেতাদের বক্তব্য বিকৃত ও মিথ্যা দাবি দিয়ে পোস্ট তৈরি** করা হতো। উদাহরণস্বরূপ, নারী রাজনীতিকদের সাথে নেতিবাচক সংযোগ তৈরি করে তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হতো।
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে** ভারতীয় বট অ্যাকাউন্টগুলি হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। গবেষকরা দেখেছেন, এই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচয় গোপন রাখে এবং নির্দিষ্ট প্রচারশিবিরের পক্ষে ভিডিও ছড়ায়।
- 📌 **নিয়ন্ত্রণহীন গোপন প্রচার** — ভারতীয় ‘পরামর্শক’ তুষার গিরি বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনে কারসাজি করছি। নির্বাচনী গণতন্ত্রের ধারণাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা নেই। সবকিছুতেই কারসাজি করা হয়।’
- 📌 **মেটা ও গুগলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভোটারের কাছে পৌঁছানো** হয়। নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞাপন বাছাই করে দেখানো হয়।
- 📌 **২০২৪ সালের ভারতীয় জাতীয় নির্বাচনের আগে** আল–জাজিরার অনুসন্ধানে মেটা ও গুগলের পেজগুলিতে পরিচয় গোপন রাখা অ্যাকাউন্টের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়।
📰 বিস্তারিত
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের আহমেদাবাদের একটি সাদামাটা এলাকায় অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটে রাতের পর রাত কাজ করতেন ২২ বছর বয়সী ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা রাজন কুমার। তিনি কেনিয়ার ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উইলিয়াম রুটোর পক্ষে গোপনে প্রচার চালিয়েছিলেন। দিনে প্রায় ৮৭০ টাকা (৭ ডলার) মজুরিতে তিনি ৫০টি পোস্ট তৈরি করতেন, যা পরিচয় গোপন রাখা অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এই অ্যাকাউন্টগুলি রুটোর আনুষ্ঠানিক প্রচারশিবির থেকে প্রকাশ করা হতো না।
কুমার জানিয়েছেন, বিরোধী নেতাদের বক্তব্য বিকৃত করতে তিনি তাঁদের বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারের অংশ কেটে ছোট করতেন। কখনো মিথ্যা দাবি দিয়ে পোস্টার বানাতেন। উদাহরণস্বরূপ, নারী রাজনীতিকদের সাথে নেতিবাচক সংযোগ তৈরি করে তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হতো। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কোনো নারী রাজনীতিক হলে আমরা কারও সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে দিই। উদ্দেশ্য সুনাম নষ্ট করা। কাউকে হেয় করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি এটি।’
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বট অ্যাকাউন্টগুলি হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। গত ৪ আগস্ট সিনেটের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটের আগে পোস্টগুলো ছড়ানো হয়েছিল। সেই ভোটে আবদুল আল-সাইদের কাছে হেরে যান স্টিভেন্স। এছাড়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও ভারতীয় ‘পরামর্শকরা’ পরিচয় গোপন রাখে এবং নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন।
ভারতের রাজনৈতিক ‘পরামর্শক’ তুষার গিরি বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনে কারসাজি করছি। বিষয়টিকে অন্যভাবে বলার সুযোগ নেই। নির্বাচনী গণতন্ত্রের ধারণাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই। সবকিছুতেই কারসাজি করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই কোনো কোনো নিষেধের গণ্ডি।’
মেটা ও গুগলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ভোটারের কাছে পৌঁছানো হয়। নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞাপন বাছাই করে দেখানো হয়। আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের প্রভাবিত করতে রাশিয়া ও চীনও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে।
"কোনো নারী রাজনীতিক হলে আমরা কারও সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে দিই। উদ্দেশ্য সুনাম নষ্ট করা। কাউকে হেয় করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি এটি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আহমেদাবাদ (ভারত), কেনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজন কুমার, উইলিয়াম রুটো, হেইলি স্টিভেন্স, আবদুল আল-সাইদ, তুষার গিরি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর (রাজন কুমার), ৮৭০ টাকা (মজুরি), ৫০টি পোস্ট, ৭ ডলার, ৪ আগস্ট (মধ্যবর্তী নির্বাচন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!