📌 ভারতের চিনি দাম ৭৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায় পৌঁছেছে, যা মিষ্টান্নের খরচে বাড়িয়ে দিয়েছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির শ্রমিক জাই কৃষ্ণের মতো লোকেরা উৎসবের মিষ্টান্ন কিনতে পারছেন না। কৃষি খরচ, এল নিনো এবং চিনির সংরক্ষণে বাধা দিচ্ছে উৎপাদন হ্রাস
ভারতের উৎসব মৌসুমে চিনি দামের অপার ভাঙন দরিদ্রদের উৎসবের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রমিক জাই কৃষ্ণের মতো লোকেরা এবার ডুয়ালি উৎসবের জন্য সংরক্ষিত মিষ্টান্ন কিনতে পারছেন না। চিনি দাম বর্তমানে ৭৫ টাকা (প্রায় ০.৭৯ ডলার) প্রতি কিলোগ্রামে (২.২ পাউন্ড) পৌঁছেছে, যা মাত্র এক বছরে ৪০ টাকা থেকে ৮৭% বৃদ্ধি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৪৩ বছর বয়সী শ্রমিক জাই কৃষ্ণ** ১৫,০০০ টাকা সংগ্রহ করে কাশ্মীর থেকে বাড়ি ফিরছেন, কিন্তু চিনি দামের কারণে ডুয়ালি মিষ্টান্ন কিনতে পারছেন না।
- 📌 **চিনি উৎপাদন ১১% কমে ৩০.৬ মিলিয়ন টন** (২০২৫-২৬ মৌসুমে), যা সরকারের পূর্বাভাসের তুলনায় ৩৪.৩ মিলিয়ন টন কম।
- 📌 **এল নিনো, কৃষকদের চিনির চাষ ত্যাগ এবং চিনির সংরক্ষণ** দায়ী চিনি দামের বেড়ে যাওয়ার পিছনে।
- 📌 **ভারতের মিষ্টান্ন শিল্পের মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার**, যেখানে উৎসব মৌসুমে ৪০% আয় আসে।
- 📌 **সরকার দাবি করে** চিনির উৎপাদন থেকে ইথানল উৎপাদনে বদলি ৯% থেকে ১২% এ নেমেছে, কিন্তু কৃষকরা দাবি করেন চাষ ত্যাগের কারণে চিনির সরবরাহ কমেছে।
📰 বিস্তারিত
বিহারের ৪৩ বছর বয়সী শ্রমিক জাই কৃষ্ণ কাশ্মীরের হাওয়াল এলাকায় বসবাসকারী এক রুমালে বসবাস করেন। তিনি প্রতি বছর ডুয়ালি উৎসবের জন্য মিষ্টান্ন কিনে পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়ে আসেন। কিন্তু এবার চিনি দামের কারণে তিনি মিষ্টান্ন কিনতে পারছেন না। তিনি বলেন, “নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটা অনেক বেশি খরচ। কিন্তু ডুয়ালি হিন্দুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এবং এটিকে ছেড়ে যাওয়া যায় না।” তিনি বলেন, “আমি পোশাক বা অন্যান্য জিনিসের খরচ কমাতে পারি, কিন্তু পরিবারের জন্য মিষ্টান্ন ছাড়া বাড়ি ফিরতে পারি না।”
ভারতের উৎসব মৌসুম শুরু হয়েছে আগস্টের শেষ থেকে। গানেশ চতুর্থি, অনম, নবরাত্রি, দুর্গা পূজা, দশহরা এবং ডুয়ালি এই উৎসবের মধ্যে অন্যতম। এই উৎসবগুলোর সময় মিষ্টান্নের চাহিদা বেড়ে যায়। ভারতের মিষ্টান্ন শিল্পের মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যেখানে উৎসব মৌসুমে ৪০% আয় আসে।
চিনি উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হলো এল নিনোর কারণে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং কৃষকরা চিনির চাষ ত্যাগ করে অন্যান্য ফসল চাষ করছে। পাঞ্জাবের চিনির কৃষক মুকেশ চন্দ্র বলেন, “এই কারণগুলো চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে এবং দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষকরা কেন চিনির চাষ করবেন যখন তা কম আয় দেয়?”
সরকার দাবি করে, চিনির উৎপাদন থেকে ইথানল উৎপাদনে বদলি কমে এসেছে। ২০২২-২৩ সালে ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার ছিল ১২%, কিন্তু এখন তা ৯% এ নেমেছে। তবে কৃষকরা দাবি করেন, চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো চিনির চাষ ত্যাগ এবং চিনির সংরক্ষণে বাধা।
"চিনির চাষ ত্যাগ, শ্রমিক খরচ বাড়া এবং চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত (বিশেষত কাশ্মীর, পাঞ্জাব, ডেলি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাই কৃষ্ণ (৪৩ বছর), মুকেশ চন্দ্র (পাঞ্জাবের চিনির কৃষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: চিনি দাম ৭৫ টাকা/কেজি (৪০ টাকা থেকে ৮৭% বৃদ্ধি), চিনি উৎপাদন ৩০.৬ মিলিয়ন টন (১১% কম), মিষ্টান্ন শিল্পের মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!