📌 ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দিয়েছেন কানাডাকে ইইউয়ের ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবের সমর্থনে। তিনি বলেছেন, কানাডার সঙ্গে ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গি মিলে আছে এবং উভয় পক্ষই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসাথে কাজ করছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবের সমর্থনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কানাডার সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট নয়, বরং অভিন্ন শক্তি বাড়ানোর একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডাকে ইইউয়ের ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবের সমর্থন জানিয়েছেন।
- 📌 তিনি বলেছেন, কানাডা ও ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গি মিলে আছে — কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা, ইউক্রেন সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত।
- 📌 ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন ফন ডার লিয়েন।
- 📌 কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বেড়েছে, যা এই প্রস্তাবের পিছনে একটি কারণ হতে পারে।
- 📌 ইইউতে ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক কাঠামো বর্তমানে নেই, বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রস্তাব কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট নয়, বরং অভিন্ন শক্তি বাড়ানোর একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ফন ডার লিয়েন বলেন, ইউরোপের জন্য অংশীদারিত্ব একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় যে ভাঙন তৈরি হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উপস্থিত ছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন। ফন ডার লিয়েন কানাডার সঙ্গে ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গির মিলের কথা উল্লেখ করে বলেন, উভয় পক্ষই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসাথে কাজ করছে। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনীতি, ইউক্রেন সংকট, প্রতিরক্ষা, কাঁচামাল ও সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম।
ইইউতে ‘সহযোগী সদস্য’ নামে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো কাঠামো তৈরি হলে তা বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর আগে ইউক্রেনকে এমন একটি বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছিল। তবে ইইউয়ের কিছু সদস্য দেশ কানাডার ক্ষেত্রে নতুন কোনো সদস্যপদ তৈরির বদলে বিদ্যমান বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তি আরও শক্তিশালী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ফন ডার লিয়েন ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাজ্য ও ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার হুমকির প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ প্রয়োজন। নিজের বক্তব্যে তিনি ইউরোপীয় নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরেছেন।
"ইউরোপের জন্য অংশীদারিত্ব একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় যে ভাঙন তৈরি হয়েছে, তারও একটি প্রতিক্রিয়া।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ব্রাসেলস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উরসুলা ফন ডার লিয়েন (ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট), মার্ক কার্নি (কানাডার প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ (সেপ্টেম্বর), ৫১ (তম অঙ্গরাজ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!