📌 ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল করে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদিকে নতুন সংকটে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ অভিযান ব্যর্থ হলে হুতিদের বিরুদ্ধে আরও বড় জোট গঠনের প্রয়োজন হতে পারে
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। গত শুক্রবার তারা লোহিত সাগরে পুরো ইয়েমেন উপকূল দখল করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেল রপ্তানির প্রধান পথ বন্ধের হুমকি দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদিকে নতুন সংকটে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থা মোকাবিলায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ অভিযান ব্যর্থ হলে হুতিদের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক জোট গঠনের প্রয়োজন হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বাব আল-মানদেব প্রণালি দখল**: হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূল দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে এবং সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে।
- 📌 **বৈশ্বিক বাণিজ্যের হুমকি**: প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়ে তারা আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের একমাত্র পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে।
- 📌 **ট্রাম্পের অভিযান ব্যর্থ**: যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ অভিযানে ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হলেও হুতিদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
- 📌 **ইরানের সমর্থন**: ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর বাব আল-মানদেব প্রণালি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- 📌 **ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের জের**: ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা সানা দখল করে এবং সৌদি নেতৃত্বে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।
📰 বিস্তারিত
হুতি বিদ্রোহীরা গত কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। তারা লোহিত সাগরে পুরো ইয়েমেন উপকূল দখল করে নেওয়ার দাবি করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেল রপ্তানির প্রধান পথ বন্ধের হুমকি দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদিকে নতুন সংকটে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থা মোকাবিলায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ অভিযান ব্যর্থ হলে হুতিদের বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত সামরিক জোট গঠনের প্রয়োজন হতে পারে।
বাব আল-মানদেব প্রণালি সমুদ্রপথে আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের একমাত্র পথ। এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর বাব আল-মানদেব প্রণালি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুতি বিদ্রোহীরা এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দিয়ে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা বাড়িয়েছে।
২০২৫ সালে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনাকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষশক্তি’র অংশ হিসেবে হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজে তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ অভিযানে ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হলেও হুতিদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। অভিযানে ইয়েমেনে আট শতাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়েছিল, কিন্তু হুতিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
"হুতিরা মনে করছে, এটাই সেই সময়, যখন তারা নিজেদের দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে তাদের আগের দাবিদাওয়ার চেয়ে আরও বেশি সুবিধাজনক শর্ত আদায় করতে পারবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব প্রণালি, ইয়েমেন, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুতি বিদ্রোহীরা, ট্রাম্প, বিশ্লেষকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ বিলিয়ন ডলার (অপারেশন রাফ রাইডার), ২০ লাখ (ইয়েমেনে নিহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!