📌 হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন হামলা ও অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০৭.৮২ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও ইরান নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে
হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা বৈশ্বিক তেল বাজারে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১০০ ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.২১ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১০৭.৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১০০ ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে।
- 📌 মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের দাবি সত্ত্বেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবাহিত হচ্ছে না — শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে।
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দাবি করে এবং মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ঘোষণা করেছে, নির্ধারিত রুটের বাইরে যাওয়া জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ হুমকির মুখে পড়েছে।
- 📌 মার্কিন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) খালি হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল মজুত বাজারকে স্থিতিশীল রাখত।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার পাশাপাশি তেলের ট্যাংকারের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হোয়াইট হাউসের এই দাবির বিপরীতে, আন্তর্জাতিক তেল বাজারে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এখন যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক প্রবাহের দুই-তৃতীয়াংশ তেল পরিবাহিত হচ্ছে। তবে বাজার কিছুটা আঁটসাঁট হলেও তা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও দাবি করেছেন, হরমুজে মার্কিন বাহিনীর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই নৌপথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সব ধরনের বাণিজ্যিক জলযানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত রুটের বাইরে যাওয়া জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইরান এই প্রণালি ঘিরে একটি নতুন সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক জাহাজ নজরদারি সংস্থাগুলোর উপাত্ত মার্কিন দাবির সঙ্গে মেলেনি। রয়টার্সের প্রকাশিত প্রাথমিক শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপার হওয়া জাহাজের সংখ্যা নেমে এসেছে এক অঙ্কে—যা সাম্প্রতিক ১০ দিনের গড় দৈনিক ১৪টি জাহাজের চেয়েও কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ পথ দিয়ে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত।
সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ শতাংশের বেশি লাফিয়ে ওঠে। ব্রেন্ট ক্রুড ৩.২১ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ডব্লিউটিআই ৩.১৭ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.২২ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের কারণে লোহিত সাগরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করতে সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।
"এখন যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক প্রবাহের দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার কিছুটা আঁটসাঁট হলেও তা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।"
"মার্কিন কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) খালি হয়ে গেছে। অন্যদিকে, শীতকালে উত্তরাঞ্চলে হিটিং অয়েলের চাহিদা বেশি থাকায় চীন তাদের জ্বালানি কেনা কমাতে পারবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন, লোহিত সাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ক্রিস রাইট, ক্রিস বিউচ্যাম্প, ক্রিস্টোফার হেইনস, আবদুল খালিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৭.৮২ ডলার (ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুড), ১০০ ডলার, ৩.২১ ডলার, ১ কোটি ব্যারেল, ১৪টি জাহাজ, ১০০টি জাহাজ, ৪ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!