📌 পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করে দেওয়া ইসরায়েলের নতুন অবৈধ বসতি প্রকল্প ই-১-এর বিরুদ্ধে ইউরোপ ও কানাডাসহ একাধিক দেশ সরব হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল এই প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
পশ্চিম তীরকে উত্তর থেকে দক্ষিণে দ্বিখণ্ডিত করে দেওয়া ইসরায়েলের নতুন অবৈধ বসতি প্রকল্প ই-১-এর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই প্রকল্প ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছিন্নতা ক্ষুণ্ন করবে এবং এর জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ও সুনাম ক্ষতির পরিণতি হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলের নতুন ই-১ প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ
- 📌 ইউরোপ ও কানাডাসহ ৭টি দেশ এই প্রকল্পকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের দাবি জানায়
- 📌 মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে ‘পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান’ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়
- 📌 মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই প্রকল্প ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছিন্নতার সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে
- 📌 জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের ই-১ প্রকল্পের অধীনে পূর্ব জেরুজালেমকে মালে আদুমিম বসতি এলাকার সঙ্গে যুক্ত করে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার ফিলিস্তিনি ভূমিতে কমপক্ষে ৩ হাজার ৪০০ ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প পশ্চিম তীরকে উত্তর থেকে দক্ষিণে দ্বিখণ্ডিত করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা ২০২৫ সালের তুলনায় বেশি হয়েছে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গত বছরের আগস্টে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর একে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘স্লোগানের মাধ্যমে নয়, কর্মের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে টেবিল থেকে মুছে দেওয়া হচ্ছে।’ ইতিমধ্যে কমপক্ষে ২১টি দেশ এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলো এখন সম্পূর্ণ মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা ইসরায়েলের আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বসতি সম্প্রসারণ তৎপরতা বৃদ্ধির সঙ্গে এই প্রকল্পকে যুক্ত করছেন।
"অগ্রহণযোগ্য" এবং "ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছিন্নতা ক্ষুণ্নকারী"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার ২০০ আবাসন ইউনিট, ৩ হাজার ৪০০ আবাসন ইউনিট, ১২ বর্গকিলোমিটার ভূমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!