📌 ইসরায়েলের যুদ্ধের পর গাজায় লাইটারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে রান্নাবান্না পর্যন্ত সবকিছুই নির্ভর করছে এই ক্ষুদ্র জিনিসটির ওপর। দিনমজুর থেকে উদ্যোক্তা হওয়া নারীরা লাইটার মেরামত করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন
গাজা শহরের একটি তাঁবুতে বসে রাবাব দাইফাল্লাহ একটি ক্ষুদ্র লাইটারকে বারবার চাপ দিচ্ছেন। আগুন ধরানোর জন্য যথেষ্ট স্পার্ক তৈরি করতে পারছেন না তিনি। পাঁচ সন্তানের জননী রাবাব জানান, ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লাইটারের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাঁর ছেলে কয়েকবার লাইটারটি মেরামত করেছে, কারণ নতুন লাইটার কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুদ্ধের কারণে গাজায় লাইটারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
- 📌 আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে রান্নাবান্না পর্যন্ত সবকিছুই নির্ভর করছে লাইটারের ওপর।
- 📌 যুদ্ধ শুরুর আগে মাত্র এক শেকেলে তিনটি লাইটার পাওয়া যেত, এখন নতুন লাইটারের দাম ২৭ থেকে ৩৩ ডলার পর্যন্ত।
- 📌 অনেক পরিবার একই লাইটার শেয়ার করে ব্যবহার করছে, কখনো কখনো কয়েকদিন পর্যন্ত আগুন জ্বালানো সম্ভব হয় না।
- 📌 গাজা শহরের বাসিন্দা রাবাব দাইফাল্লাহ জানান, পুরো দৈনন্দিন জীবন আগুনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
গাজা শহরের তাঁবুতে বসে থাকা রাবাব দাইফাল্লাহ জানান, তাঁর পুরো দৈনন্দিন জীবন আগুনের ওপর নির্ভরশীল। তিনি রুটি সেঁকা, পানি গরম করা, খাবার তৈরি করা এবং চা বানানোর জন্য আগুন ব্যবহার করেন। যুদ্ধ শুরুর আগে লাইটারের দাম ছিল এতটাই কম যে তিনি মাত্র এক শেকেলে তিনটি লাইটার কিনতে পারতেন। কিন্তু এখন নতুন লাইটারের দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ থেকে ৩৩ ডলার পর্যন্ত। রাবাব তাঁর পুরোনো লাইটারটি কয়েকবার মেরামত করেছেন, কারণ নতুন লাইটার কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, "পুরো দৈনন্দিন জীবন আগুনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আগুন ধরানো শুরু হয় লাইটার দিয়ে, আর এই ক্ষুদ্র জিনিসটি গাজায় সবচেয়ে দুর্লভ হয়ে উঠেছে।" যুদ্ধের কারণে গাজায় খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "আমি কি এই পরিমাণ অর্থ লাইটারে ব্যয় করব, নাকি এক ব্যাগ আটা কিনব?" অনেকেই খাবারের জন্য অর্থ ব্যয় করতে চান, তাই একই লাইটার কয়েকটি তাঁবুর পরিবার মিলে ব্যবহার করছে। কখনো কখনো কয়েকদিন পর্যন্ত তাঁর পরিবার ঠান্ডা খাবার খেয়ে থাকে বা প্রতিবেশীর কাছ থেকে আগুন ধার করে আনতে হয়।
পাশের তাঁবুতে বসে থাকা হাসনা মন্সুরও একই সমস্যার মুখোমুখি। তিনি জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে এসেছেন। তাঁর স্বামী ছিলেন দর্জি, কিন্তু যুদ্ধের কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন খাবার বিক্রি করে সংসার চালান। হাসনা তাঁর লাইটারটি বারবার মেরামত করেছেন, কারণ নতুন লাইটার কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে রান্নার গ্যাসের অভাব তাঁর সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "গ্যাসের ক্ষেত্রে শুধু একটা স্পার্কই যথেষ্ট, কিন্তু চুলায় আগুন ধরাতে সত্যিকারের আগুন দরকার। সকাল থেকে বসে আছি, সকাল দশটা পর্যন্ত চুলায় আগুন ধরাতে পারিনি। আমি আমার ছোট মেয়েকে কার্ডবোর্ড নিয়ে প্রতিবেশীর কাছে আগুন খুঁজতে পাঠিয়েছি, কিন্তু কেউ আগুন জ্বালাতে পারেনি।"
"পুরো দৈনন্দিন জীবন আগুনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আগুন ধরানো শুরু হয় লাইটার দিয়ে, আর এই ক্ষুদ্র জিনিসটি গাজায় সবচেয়ে দুর্লভ হয়ে উঠেছে।"
"আমি কি এই পরিমাণ অর্থ লাইটারে ব্যয় করব, নাকি এক ব্যাগ আটা কিনব?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা শহর, ফিলিস্তিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাবাব দাইফাল্লাহ, হাসনা মন্সুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লাইটারের দাম বৃদ্ধি (১ শেকেল → ২৭-৩৩ ডলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!