📌 দিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবের আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে একমত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন
দিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বিশ্বব্যবস্থায় সৃষ্ট অস্থিরতার আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশের নেতারা, যাদের মধ্যে ভারত, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরানসহ অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত, এই সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ইরান যুদ্ধ ও মার্কিন শুল্ক নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সমালোচনা বা যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিল্লিতে শুরু ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
- 📌 ১১টি সদস্য দেশের নেতা অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ভারত, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানসহ অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে মার্কিন হোয়াইট হাউসের শুল্ক আরোপ ও ইরান যুদ্ধের হুমকি।
- 📌 ব্রিকসের যৌথ বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সমালোচনা বা ট্রাম্পের নীতির মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল ঘোষণা করার সম্ভাবনা কম।
- 📌 বিভাজন ও অস্পষ্টতা ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’ বলে বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন।
- 📌 বিশ্বব্যবস্থার ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা ও ৪০ শতাংশ জিডিপি দখল করে ব্রিকস, কিন্তু সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ব্রিকস, যা অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে।
📰 বিস্তারিত
দিল্লিতে শুরু হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব বিশ্বব্যবস্থায় সৃষ্ট অস্থিরতার আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশের নেতারা, যাদের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্যদের অন্তর্ভুক্ত, এই সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ইরান যুদ্ধ ও মার্কিন হোয়াইট হাউসের শুল্ক আরোপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সমালোচনা বা যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান, আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো, বিবিসিকে বলেছেন, ‘ভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।’ তিনি আরও বলেছেন, ব্রিকসের সম্প্রসারণের ফলে জোটটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কিন্তু সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়েছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ দখল করে আছে। তবে সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য তাদের একমত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তাই দিল্লি হোয়াইট হাউসকে অসন্তুষ্ট করতে কোনো বিবৃতি দিতে চাইবে না।
ব্রিকসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠা। এই ব্যাংকটি অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। তবে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো বিশ্বব্যবস্থায় ডলারের প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টা (ডি-ডলারাইজেশন) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিতে পারবে না।
"ভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়। সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।"
"বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে নানা মত ও ভিন্ন অবস্থান থাকা দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, মাইকেল কুগেলম্যান, নরেন্দ্র মোদি, ভ্লাদিমির পুতিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১টি সদস্য দেশ, ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ জিডিপি, ২৬ শতাংশ বাণিজ্য, ১০০ শতাংশ শুল্ক হুমকি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!