📌 তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, মিসর তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তিটি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে এবং এর সম্প্রসারণের জন্য মিসরের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা হচ্ছে
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন যে, মিসর তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই চুক্তিটি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। মিসরের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা হচ্ছে।"
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মিসরের
- 📌 চুক্তিটি মক্কা শহরে গত শুক্রবার স্বাক্ষরিত হয়, যাতে অংশ নেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ
- 📌 চুক্তিটি অনুসারে, তিন দেশের যে কোনো একটিতে সশস্ত্র হামলাকে সবাইকে আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে
- 📌 তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই চুক্তিটি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে"
- 📌 এরদোয়ান সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের স্থিতিশীলতা সমর্থনে তুরস্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন
- 📌 তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুরস্ককে সদস্য হিসেবে গ্রহণে অনিচ্ছার কথা উল্লেখ করেন
- 📌 তুরস্কের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন বলে জানান
📰 বিস্তারিত
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জানান যে, মিসর তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, "এই চুক্তিটি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। মিসরের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা হচ্ছে।" আল মুকাবালা নামের এই সাক্ষাৎকারটি আল জাজিরা আরবিতে রোববার সন্ধ্যায় প্রচারিত হবে।
তিনি আরও জানান, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নামে পরিচিত এই চুক্তির মাধ্যমে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো বহিঃআক্রমণের মুখোমুখি হলে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরদোয়ান বলেন, "এই চুক্তিটি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, চুক্তিটি ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের জন্য মিসরের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
চুক্তিটি গত শুক্রবার মক্কা শহরে স্বাক্ষরিত হয়। এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির বিধান অনুসারে, তিন দেশের যে কোনো একটিতে সশস্ত্র হামলাকে সবাইকে আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সাথে তুলনা করেছেন। তবে ইসলামাবাদে কর্মকর্তারা একে ন্যাটোর সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
এরদোয়ান সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের স্থিতিশীলতা সমর্থনে তুরস্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তুরস্ক তার প্রতিবেশীদের একা ছেড়ে যাবে না। সিরিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, তুরস্ক সিরিয়ার স্থিতিশীলতা সমর্থনে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং সিরিয়ার কুর্দিদের "শান্তি ও স্থিতিশীলতার অংশীদারিত্ব" দেওয়া হবে।
গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তুরস্ক "গাজাকে একা ছেড়ে যেতে পারে না" এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা সমর্থনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, হামাস তার প্রতিশ্রুতি পালনে আন্তরিক এবং ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। লেবানন সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা তুরস্কের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরে লেবাননের যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এরদোয়ান সুদানের স্থিতিশীলতা সমর্থনে তুরস্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সুদানের সার্বভৌমত্ব পরিষদের প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সাথে তার সম্পর্ককে ভালো বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, তুরস্কের লিবিয়ার সাথে সম্পর্ক স্থিতিশীল এবং তুরস্ক লিবিয়াকে পরিত্যাগ করবে না।
ইউরোপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তুরস্ককে সদস্য হিসেবে গ্রহণে অনিচ্ছুক বলে মনে হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সদস্যপদ তুরস্কের জন্য আর অগ্রাধিকার নয় এবং ইউরোপ হবে "পরাজিত পক্ষ"। তিনি আরও জানান যে, তিনি ট্রাম্পের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন।
২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার পর তুরস্ককে বহুজাতিক এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়। ওয়াশিংটন যুক্তি দিয়েছিল যে, এই ব্যবস্থা স্টিলথ জেটের প্রযুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে। গত মাসে আনকারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প এরদোয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে জানান যে, তার প্রশাসন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এস-৪০০ ক্রয়ের জন্য আরোপিত ক্যাটসএ স্যাংশন প্রত্যাহার করবে এবং এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে কংগ্রেসের বিরোধিতার কারণে কোনো বিক্রয় এখনও সম্ভব হয়নি এবং ২০২০ সালের একটি আইন অনুসারে তুরস্ক এস-৪০০ ব্যবস্থা ধরে রাখা পর্যন্ত পেন্টাগন তুরস্ককে এফ-৩৫ বিমান সরবরাহ করতে পারবে না।
"এই চুক্তিটি বিশ্বকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ), ৪০০ (এস-৪০০ ব্যবস্থা), ৩৫ (এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!