📌 কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইবোলা মহামারির মধ্যেই স্কুল খুলছে সরকার। অভিভাবক ও শিক্ষকরা সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪১ জন আক্রান্ত ও ২ হাজার ৯১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গোমা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র – গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা মহামারির মধ্যেই মঙ্গলবার স্কুল খুলছে। দেশটির ইতুরি প্রদেশে মহামারির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪১ জনে। মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯১১ জনের। এর আগের সর্বোচ্চ মহামারির তুলনায় এ সংখ্যা বেশি। দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টি প্রদেশেই মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। ইতুরি প্রদেশে মহামারির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রদেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০২ জন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইতুরি প্রদেশে ইবোলা মহামারির মধ্যেই স্কুল খুলছে সরকার
- 📌 দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলা আক্রান্ত ৬ হাজার ৪১ জন, মৃত্যু ২ হাজার ৯১১ জন
- 📌 ইতুরি প্রদেশে মহামারির কেন্দ্রবিন্দু, আক্রান্ত ৪ হাজার ৮০২ জন
- 📌 অভিভাবকরা স্কুল খোলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন
- 📌 সরকার স্কুল পুনরায় চালু করতে তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে
📰 বিস্তারিত
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইতুরি প্রদেশে ইবোলা মহামারির মধ্যেই সরকার স্কুল পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মহামারিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে পূর্ববর্তী মহামারির রেকর্ড। ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় অভিভাবকরা স্কুল খোলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিভাবক দিয়েদোনে লোটসিমা বলেন, "আমি একজন অভিভাবক হিসেবে স্কুল খোলার ঘোষণায় উদ্বিগ্ন। আমাদের অঞ্চলে ইবোলা মহামারি চলছে। সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তা জানতে চাই।" তিনি আরও বলেন, "শিশুরা শিশুই। তারা হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন নয়। যদি তারা আক্রান্ত হয়, তাহলে পুরো পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলবে। স্কুল খোলা অনিশ্চিত। যদি শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কী করব তা জানি না।"
এই মহামারি সৃষ্টিকারী ভাইরাসটি হলো বান্ডিবুগিও ভাইরাস, যা পূর্ববর্তী ইবোলা মহামারির ভাইরাস থেকে আলাদা। বর্তমানে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। জাইরে ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ইরভেবো টিকা স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া হলেও বান্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বর্তমান মহামারির বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করছে।
সরকার স্কুল পুনরায় চালু করতে তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে পাঠ্যপুস্তক ও রেডিও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইবোলা-আক্রান্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে ৪০টি উপবিভাগে স্কুল পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার এলাকাগুলোকে তিন স্তরে ভাগ করেছে: সবুজ (কোনো সংক্রমণ নেই), কমলা (সতর্কতা সহকারে চালু) ও লাল (সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ)। শিক্ষামন্ত্রী রাইসা মালু বলেন, "আমরা পাঠ্যপুস্তকের ব্যবস্থা করেছি, যা শিক্ষার্থীদের ঘরে বসে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এটি ইন্টারনেটভিত্তিক নয়।"
"আমি আমার সন্তানকে স্কুলে পাঠাব কি না তা নিয়ে অনিশ্চিত। স্কুলে অনেক মানুষ একত্রিত হবে। তারা কাছাকাছি আসবে এবং সংক্রমিত হতে পারে।" — ক্যাথরিন নিয়েমা, বুনিয়ায় দুই সন্তানের মা
"শিশুরা শিশুই। তারা হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন নয়। যদি তারা আক্রান্ত হয়, তাহলে পুরো পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলবে। স্কুল খোলা অনিশ্চিত। যদি শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কী করব তা জানি না।" — দিয়েদোনে লোটসিমা, বুনিয়ায় তিন সন্তানের অভিভাবক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইতুরি প্রদেশ, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিয়েদোনে লোটসিমা, ক্যাথরিন নিয়েমা, রাইসা মালু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ হাজার ৪১ জন (আক্রান্ত), ২ হাজার ৯১১ জন (মৃত্যু), ৪ হাজার ৮০২ জন (ইতুরিতে আক্রান্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!