📌 কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির মেয়াদ শেষ হতে দুই বছর বাকি থাকতেই শুরু হয়েছে সংবিধান সংশোধনের লড়াই। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে সংবিধান পরিবর্তনের পথ খুঁজছে সরকার। পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো
কিনশাসা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র – গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে। তবে দুই বছর আগেই তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক লড়াই। মে মাসে তশিসেকেদি জানান, তিনি তৃতীয় মেয়াদের জন্য চেষ্টা করেননি, তবে জনগণ চাইলে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন। বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দুই মেয়াদ সীমা অপসারণ করা হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রেসিডেন্ট তশিসেকেদির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালে
- 📌 বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চলছে
- 📌 পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-এর দখলে রয়েছে গোমা ও বুকাভু শহর
- 📌 বিরোধী দল সি৬৪-এর নেতৃত্বে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি
- 📌 সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং তা একবারই নবায়নযোগ্য। তবে তশিসেকেদির দল দাবি করছে, দেশের জন্য প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার। অন্যদিকে বিরোধীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই সংস্কার আসলে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পথ খুলে দিতে পারে।
জুন মাসে পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের শর্ত নির্ধারণ করা হয়। জুলাইয়ে সাংবিধানিক আদালত আইনটির বৈধতা স্বীকার করলেও কিছু ধারায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। ১০ আগস্ট তশিসেকেদি জাতীয় পরিষদ ও সেনেটের প্রেসিডেন্টদের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। জাতীয় পরিষদ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে এটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
আইনটি অনুসারে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের “গুরুতর কর্মক্ষমতা হ্রাস” ঘটলে একটি গণপরিষদ গঠন করে গণভোট আয়োজনের বিধান রয়েছে। বিরোধীরা মনে করছেন, এই বিধানটি আসলে তশিসেকেদির তৃতীয় মেয়াদের পথ প্রশস্ত করতে পারে। সরকার অবশ্য দাবি করছে, এটি ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ।
বিরোধী দল সি৬৪-এর নেতৃত্বে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। দলটির নামকরণ করা হয়েছে সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদের নামে, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের আহ্বান জানায়। সি৬৪-এর নেতারা জানিয়েছেন, তারা তশিসেকেদির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করবেন। দলটি ১৫ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী কিনশাসায় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে।
"সংবিধান সংশোধন, গণভোট বা আইনি কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান সংবিধানকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। যুদ্ধের সময় এই ধরনের পদক্ষেপ জাতীয় ঐক্যকে বিপন্ন করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিনশাসা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ (সি৬৪ জোটের নামকরণ), ২০২৮ (মেয়াদ শেষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!