📌 দিল্লিতে ৫৪ বছর বয়সী মণিপুরি রক গিটারিস্ট চংথাম বিক্রম সিংয়ের হত্যাকাণ্ডে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীতশিল্পীরা শোক প্রকাশ করছেন। পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু হত্যার পেছনে জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগ নতুন করে উঠেছে।
দিল্লির একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাইরে রাতের অন্ধকারে শেষ হলো ৫৪ বছর বয়সী মণিপুরি রক গিটারিস্ট চংথাম বিক্রম সিংয়ের জীবন। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে একদল ব্যক্তি তাঁকে মারধর করে হত্যা করার পরিকল্পিত হামলায় তিনি মারা যান। দিল্লির উত্তর-পূর্ব ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া তীব্র — তারা দাবি করছেন, এই ঘটনায় জাতিগত বৈষম্যের ছাপ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৪ বছর বয়সী রক গিটারিস্ট চংথাম বিক্রম সিং দিল্লির নিজ বাড়ির বাইরে মারধর করে হত্যা করা হয় — ২০ বছর বয়সী ছেলে হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে মৃত্যু হয় ৬ সেপ্টেম্বর রাতে
- 📌 সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক কিশোরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু হত্যার পেছনে জাতিগত বিদ্বেষের প্রমাণ পায়নি পুলিশ
- 📌 উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীতশিল্পীরা দাবি করছেন, এই হত্যাকাণ্ডে জাতিগত বৈষম্যের ছাপ রয়েছে — দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতীয়দের বিরুদ্ধে হয়রানি চলছে
- 📌 বিক্রমের স্ত্রী জোশনা চংথাম বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা বিচার চাই’ — তাঁর পরিবার ও গুরুত্বপূর্ণ জীবন ছিল
- 📌 মণিপুরের খ্যাতিমান গায়িকা চংথাম কমলা ছিলেন মণিপুরি চলচ্চিত্র ‘মাতামগি মনিপুর’-এর কণ্ঠশিল্পী — ছোটবেলায় অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাইতেন বিক্রম
- 📌 দিল্লিতে স্থায়ী হয়ে ২০০০-এর দশকে গড়ে তোলেন ‘ফুবার গেটো’ ব্যান্ড — বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতেন
📰 বিস্তারিত
দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় ৬ সেপ্টেম্বর রাতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাইরে একদল ব্যক্তি উচ্চস্বরে চিৎকার ও মদ্যপান করছিলেন। চংথাম বিক্রম সিং তাদের আপত্তি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বাসায় ফিরে গেলেও হামলাকারীরা তাঁকে অনুসরণ করে ফ্ল্যাটের বাইরে আবারও মারধর করে। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁর ২০ বছর বয়সী ছেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ভোরে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে হত্যার পেছনে জাতিগত বিদ্বেষের প্রমাণ পায়নি।
বিক্রমের স্ত্রী জোশনা চংথাম বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা বিচার চাই। তাঁর একটি পরিচয়, পরিবার ও গুরুত্বপূর্ণ জীবন ছিল।’ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা দাবি করছেন, দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী অপমান, হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।
বিক্রমের মা চংথাম কমলা ছিলেন মণিপুরি ভাষার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাতামগি মনিপুর’-এর কণ্ঠশিল্পী। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে যেতেন বিক্রম। পরে নিজেও শিশু শিল্পী হিসেবে সেখানে অ্যাকর্ডিয়ন বাজান। কৈশোরে তিনি হাওয়াইয়ান ও স্প্যানিশ গিটারের পাশাপাশি ইলেকট্রিক গিটার হাতে নেন। ১৯৮০-এর দশকে ইম্ফলে ক্যাসেটের মাধ্যমে হার্ড রক ও হেভি মেটালের সুর ছড়িয়ে পড়লে তিনি যুক্ত হন স্থানীয় ব্যান্ড আলট্রা ভাইরেস, ফোনিক্স ও ইস্টার্ন ডার্ক-এর সঙ্গে। মণিপুরের নিজস্ব রক সংগীতের বিকাশে তাঁর প্রজন্মের শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
"আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা বিচার চাই। তাঁর একটি পরিচয়, পরিবার ও গুরুত্বপূর্ণ জীবন ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা), মণিপুর (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চংথাম বিক্রম সিং (রক গিটারিস্ট), জোশনা চংথাম (স্ত্রী), চংথাম কমলা (মা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ বছর (বয়স), ৬ সেপ্টেম্বর (হত্যার তারিখ), ৭ জন (গ্রেপ্তার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!