📌 সিরিয়ার সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমদ বদরেদ্দিন হাসুনের বিরুদ্ধে দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতে ট্রানজিশনাল বিচার শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেডনায়া কারাগারে ১৩ হাজার বন্দির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সিরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের শাসনামলে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত আহমদ বদরেদ্দিন হাসুনের বিরুদ্ধে ট্রানজিশনাল বিচার শেষে সোমবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত রায় ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত
- 📌 ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেডনায়া কারাগারে ১৩ হাজার বন্দির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে
- 📌 রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসতে পারে
- 📌 ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়
- 📌 তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতা উসকানির অভিযোগ রয়েছে
📰 বিস্তারিত
সিরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের শাসনামলের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা আহমদ বদরেদ্দিন হাসুনকে নিয়ে দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতে ট্রানজিশনাল বিচার শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারটি শুরু হয়েছিল গত ২৫ জুন।
হাসুন সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত। তিনি সিরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের প্রতি অন্ধ সমর্থনের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক ভাষা ব্যবহার করতেন এবং আসাদ সরকারের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তিনি কয়েক মাস লুকিয়ে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সহিংসতা উসকানি এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, আসাদ তাকে সেডনায়া কারাগারে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ১৩ হাজার বন্দির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
"বিদেশি দেশগুলো সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করলে লেবানন ও সিরিয়া তাদের নাগরিকদের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে গড়ে তুলবে।"
হাসুন ১৯৪৯ সালে আলেপ্পোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন বিশিষ্ট শেখ। তিনি আলেপ্পোতে স্থানীয়ভাবে খুতবা দিতেন এবং ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে সিরিয়ান বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি আসাদ সরকারের প্রতি পুরোপুরি সমর্থন জানান এবং বিদেশি হস্তক্ষেপকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থন হিসেবে অভিহিত করেন। তার বিরুদ্ধে ‘ব্যারেল বোমা মুফতি’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
২০২১ সালে আসাদ সরকার তাকে গ্র্যান্ড মুফতি পদ থেকে অপসারণ করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর তিনি লুকিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় যখন তিনি জর্ডানের আম্মানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দামেস্ক, সিরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহমদ বদরেদ্দিন হাসুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!