📌 সরকারের নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা অনুযায়ী ২০৩০-৩১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫৯১ ডলার, প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক সংস্কার, রাজস্ব ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল থেকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে
সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা থেকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছরের একটি বিস্তৃত রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫৯১ ডলার, জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বুধবার প্রকাশিত ‘ট্রান্সফর্মিং ইকোনমি ফ্রম ফ্রেজাইলিটি টু প্রসপারিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০৩০-৩১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫৯১ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
- 📌 চলতি অর্থবছরের সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে বৃদ্ধি করে পঞ্চম বছরে সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা
- 📌 ব্যাংক খাত সংস্কারের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ও দুর্বল সুশাসনের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ
- 📌 রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং কর-জিডিপি অনুপাত ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা
- 📌 অবকাঠামো উন্নয়নে নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা–লাকসাম–ফেনী কর্ডলাইন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ বিদ্যুতায়ন এবং আন্তর্জাতিক রেল সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ
- 📌 তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড থেকে বার্ষিক ৫৬০ জন তরুণ এবং ১ হাজার ২০০ নারী উদ্যোক্তাকে সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা
📰 বিস্তারিত
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা থেকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছরের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৯৫৮ ডলার থেকে বৃদ্ধি করে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা ৪ হাজার ৫৯১ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে চলতি অর্থবছরের সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে বৃদ্ধি করে পঞ্চম বছরে সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রথম বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা আনয়ন এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষ দুই বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিকে দ্রুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ ও দুর্বল সুশাসনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকগুলোকে চিহ্নিত করে প্রথম বছরেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব নীতি ও আদায় বিভাগ আলাদা করার পাশাপাশি একক ভ্যাট হার চালু, করছাড় কমানো এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ–কুমিল্লা–লাকসাম–ফেনী কর্ডলাইন, ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ বিদ্যুতায়ন, ঢাকা–পঞ্চগড় ও ঢাকা–চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথ ডাবল লাইনের উদ্যোগ। এছাড়া ঢাকা থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বড় শহরগুলোতে মেট্রোরেল, এলিভেটেড রেল, কমিউটার রেল ও মনোরেলের সম্প্রসারণের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: জিইডি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার ৫৯১ ডলার (মাথাপিছু আয়), সাড়ে ৮ শতাংশ (প্রবৃদ্ধি), ৫ শতাংশ (মূল্যস্ফীতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!