📌 কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাসের আগুন জ্বলে ওঠে। বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা গ্যাসের প্রকৃতি ও উৎস বিশ্লেষণ করছেন
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় গ্যাসের আগুন জ্বলে ওঠে। বৈদ্যুতিক তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কক্সবাজারর উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় গ্যাসের আগুন জ্বলে ওঠে, যা ২৪ ঘণ্টা পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
- 📌 বৈদ্যুতিক তারে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
- 📌 ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করছে, কিন্তু গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি।
- 📌 বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা ২৮ অক্টোবর বুধবার সকালে গ্যাসের প্রকৃতি ও উৎস নির্ধারণের কাজ শুরু করবেন।
- 📌 এস এম নাফিফুন আরহাম বলেছেন, গভীরে গ্যাসের স্তর থেকে নির্গত হওয়া গ্যাস ভূগর্ভের ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে।
- 📌 গ্যাসের সংস্পর্শে স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- 📌 গ্যাসের মজুত সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় গ্যাসের নির্গমন শুরু হয়। গর্ত থেকে গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হওয়ার পরপরই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলপ্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল। তিনি জানান, গ্যাসের স্তরের ওপরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর উচ্চচাপের গ্যাস ভূগর্ভের বিভিন্ন ফাটল দিয়ে পথ তৈরি করে কয়েক দিন পর ভূপৃষ্ঠে উঠে আসতে পারে। গ্যাসের সংস্পর্শে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাসে তুলনামূলক ভারী হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের আগে গ্যাসের প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
নাফিফুন আরহাম সতর্ক করে বলেছেন, গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করতে বা এর চাপ আটকে দিতে চেষ্টা করলে গ্যাস ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। এতে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি জানতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"গভীরে গ্যাসের স্তর থেকে নির্গত হওয়া গ্যাস ভূগর্ভের ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। গ্যাসের সংস্পর্শে স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন লাগতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইনানী, উখিয়া উপজেলা, কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস এম নাফিফুন আরহাম (বাপেক্সের ব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ কিলোমিটার (বিদ্যুৎ বন্ধ এলাকা), ২৪ ঘণ্টা (বিদ্যুৎ বন্ধ), ২০০ মিটার (বিচ্ছিন্ন এলাকা), ৩৩ হাজার ভোল্ট (বিদ্যুৎ সরবরাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!