📌 নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও দেড় হাজার নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বজুড়ে দেড় কোটি মানুষ হিমবাহজনিত বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সম্প্রতি সংঘটিত প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাংটাং-লিরুং পাহাড়ে হিমবাহ ধসে পড়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে, যা ভূমিকম্পের মতো অনুভূত হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও দেড় হাজার নিখোঁজ
- 📌 বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে
- 📌 বিশ্বজুড়ে দেড় কোটি মানুষ হিমবাহজনিত বন্যার উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন
- 📌 হিমালয়, কারাকোরাম ও হিন্দুকুশ অঞ্চলে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পারমাফ্রস্ট ও হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব লিডসের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ জোনাথন ক্যারাইভিক জানান, এই প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারী দেড় কোটি মানুষকে হিমবাহজনিত বন্যার ঝুঁকিতে ফেলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, হিমালয়, কারাকোরাম, হিন্দুকুশ ও আশপাশের পর্বতমালা অঞ্চলে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দ্রুত উষ্ণায়ন, গলিত পানির হ্রদ বৃদ্ধি এবং খাড়া পাহাড়ি ঢালের কারণে উচ্চ এশীয় অঞ্চলগুলো চরম বিপদের মুখে রয়েছে। তবে শুধু এশিয়াই নয়, উত্তর আমেরিকা, আল্পস পর্বতমালা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ অঞ্চলেও এই ঝুঁকি রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহের বরফ গলে ভিত্তিমূলে একটি বড় হ্রদ তৈরি হয়, যা একটি অস্থিতিশীল প্রাকৃতিক বাঁধ দ্বারা আটকে থাকে। উষ্ণতা বৃদ্ধি বা পাহাড়ের ধসের কারণে সেই বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও বরফ নিচের জনবসতিতে নেমে আসে। নেপালের ক্ষেত্রেও লেন্দে খোলা নদী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিল।
"ভবিষ্যতে এ ধরনের বন্যার সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান আগাম বলা কঠিন হলেও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে চলেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চল
- 👥 বিশেষজ্ঞ: জোনাথন ক্যারাইভিক
- 🔢 মৃত্যু: শতাধিক
- 🔢 নিখোঁজ: দেড় হাজার
- 🔢 ঝুঁকিতে মানুষ: দেড় কোটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!