📌 প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিচারিক রায় লেখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এআই মানুষের বিবেক ও বিচারবোধের বিকল্প হতে পারে না
ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৬: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিচারিক রায় লেখা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক ও অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। শনিবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে তিনি এ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, বিচারকরা এআই ব্যবহার করে রায় লিখতে পারবেন না
- 📌 একজন বিচারকের রায় লেখার প্রক্রিয়ায় তিনটি মূল বিষয় বিবেচনা করতে হয়: ঘটনার প্রকৃত তথ্য, প্রযোজ্য আইন ও নিজস্ব বিচারবোধ
- 📌 প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, মানুষের চিন্তাশক্তি ও বিবেকের বিকল্প হিসেবে কোনো কৃত্রিম ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়
- 📌 সম্প্রতি ইংল্যান্ডে এআইয়ের মাধ্যমে লেখা একটি রায়ে ভুল তথ্যের উল্লেখ পাওয়া গেছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন
📰 বিস্তারিত
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, বিচার বিভাগে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি রায় লেখার সময় বিচারককে তিনটি স্তম্ভ বিবেচনা করতে হয়: প্রথমত, মামলার প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য; দ্বিতীয়ত, সেই ঘটনার সঙ্গে প্রযোজ্য আইন; এবং সর্বশেষ নিজস্ব বিচারবোধ ও বিবেক। তাঁর মতে, মানুষের বিবেক ও চিন্তাশক্তির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ‘এআই মানুষের বিচারবোধকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।’
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তাঁর উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি ইংল্যান্ডে এআইয়ের সহায়তায় লেখা একটি রায়ে এমন নজির উল্লেখ করা হয়েছিল যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিচার বিভাগে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন ড. মোহাম্মদ একরামুল হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী। স্বাগত বক্তব্যে ব্যারিস্টার তাসনোভা শেলী বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এআই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
"একজন বিচারকের বিবেক ও চিন্তাশক্তির বিকল্প কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হতে পারে না। মানুষ যদি নিজের চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ (আগস্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!