📌 চীন সাংহাইয়ে বিশ্বের প্রথম ড্রোন বহনকারী মাদারশিপ নির্মাণ করছে। এই ৬৭০ ফুট দীর্ঘ জাহাজে ১২টি জ্যাক-আপ বাহু দিয়ে পানির নিচে ডুবোযান নামানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করবে।
চীনের সাংহাইতে নির্মাণাধীন একটি বিপুল আকারের জাহাজ বিশ্বের প্রথম ড্রোন মাদারশিপ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, যা পানির নিচে স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বহন করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় এই বিশেষায়িত জাহাজের নির্মাণ কাজ চলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীন বিশ্বের প্রথম ড্রোন মাদারশিপ নির্মাণ করছে, যা পানির নিচে ডুবোযান বহন করতে সক্ষম হবে
- 📌 জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭০ ফুট এবং প্রস্থ ৮৮.৫ ফুট, পেছনে রয়েছে পানিতে নামানোর জন্য বিশেষ ‘ওয়েট ওয়েল ডেক’
- 📌 ১২টি উল্লম্ব জ্যাক-আপ বাহু দিয়ে জাহাজটি অন্তত চারটি বিশাল ডুবোযান বহন করতে পারে
- 📌 চীনের দুটি ডুবোযানের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১১৫ ফুট ও ১৪৮ ফুট — যুক্তরাষ্ট্রের ‘অরকা’ ডুবোযানের দ্বিগুণ আকার
- 📌 দক্ষিণ চীন সাগরে চীন-ফিলিপাইন-ভিয়েতনাম-ব্রুনেই-তাইওয়ানের বিরোধে চীনের সামরিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে
- 📌 জাহাজটি নির্মাণ শেষে আরো ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে সাগরে নামানোর জন্য
📰 বিস্তারিত
চীনের সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন এই জাহাজের উদ্দেশ্য বিশেষায়িত ড্রোন বা স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বহন করা। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে নৌ-ইতিহাসবিদ এইচ আই সাটন ‘নেভাল নিউজ’-এ লিখেছেন, জাহাজটির পেছনে বিশেষ ‘ওয়েট ওয়েল ডেক’ এবং একটি ক্র্যাডল রয়েছে। এগুলো পানিতে নামানোর জন্য ১২টি উল্লম্ব জ্যাক-আপ বাহুর সাহায্যে পরিচালিত হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি অন্তত চারটি বিশাল আকারের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বহন করতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের তৈরি দুটি বিশাল চালকবিহীন ডুবোযানের অস্তিত্ব ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এর একটির দৈর্ঘ্য ১১৫ ফুট এবং অন্যটির ১৪৮ ফুট। ১১৫ ফুট দীর্ঘ ডুবোযানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ‘অরকা’ ডুবোযানের দ্বিগুণ আকারের। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের একটি ডুবোযান দীর্ঘদূরত্বে তথ্য সংগ্রহ ও সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের মধ্যে চীনের স্বয়ংক্রিয় নৌব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ছে। চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করলেও, ২০১৬ সালে হেগের সালিশি ট্রাইব্যুনাল তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বেইজিং তা অস্বীকার করেছে।
"ছবিগুলো জাহাজটির উদ্দেশ্য নিশ্চিত করে না, তবে বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হিসেবে বিবেচনার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে"
— আলেসান্দ্রো আরদুইনো, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক
ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথান বলেছেন, এমন জাহাজ পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ শনাক্ত এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার মতো তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে এসব ডুবোযান সামরিক অভিযানেও ব্যবহারের সক্ষমতা রাখবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাংহাই (চীন), দক্ষিণ চীন সাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আদিত্য রামানাথান, আলেসান্দ্রো আরদুইনো, এইচ আই সাটন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭০ ফুট (জাহাজ দৈর্ঘ্য), ৮৮.৫ ফুট (জাহাজ প্রস্থ), ১২টি (জ্যাক-আপ বাহু), ১১৫ ফুট ও ১৪৮ ফুট (ডুবোযান দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!