📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪-১ ভোটে গৃহীত ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবের মাধ্যমে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরা হবে। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। মানচিত্রের প্রজেকশন পরিবর্তন কীভাবে উপনিবেশবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন করে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ঐতিহাসিক ভোটের মাধ্যমে মানচিত্রের প্রজেকশন পরিবর্তনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাবের মাধ্যমে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরা হবে, যেখানে মহাদেশগুলো তাদের বাস্তবিক আয়তনের কাছাকাছি দেখানো হবে। এই প্রস্তাবের পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দিয়েছে, আর একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লিথুয়ানিয়া, মলদোভা, সার্বিয়া ও ইউক্রেন ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৬৪-১ ভোটে ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যেখানে আফ্রিকার প্রকৃত আকার তুলে ধরা হবে
- 📌 মার্কেটর প্রজেকশনে আফ্রিকা বাস্তবে ১৪ গুণ বড় হলেও মানচিত্রে ছোট দেখায়, যা উপনিবেশবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপের ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল
- 📌 মানচিত্রের প্রজেকশন পরিবর্তন শুধু ভূগোল নয়, ক্ষমতার সম্পর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে
📰 বিস্তারিত
মানচিত্রের প্রজেকশন পরিবর্তন একটি সামান্য বিষয় মনে হলেও এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের উদ্যোগে ও টোগোর সমর্থনে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহার করে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা। এই প্রজেকশনে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড় আফ্রিকা বাস্তবে কতটা বড় তা বোঝা যায়।
১৫৬৯ সালে জেরারডাস মার্কেটর তৈরি করেছিলেন মার্কেটর প্রজেকশন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নৌযাত্রার সময় দিকনির্দেশনা সঠিক রাখা। কিন্তু এই প্রজেকশন উচ্চ অক্ষাংশের ভূখণ্ডকে অস্বাভাবিকভাবে বড় দেখায়, ফলে আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার মতো মহাদেশগুলো বাস্তবে তুলনায় ছোট দেখায়। এই প্রজেকশন তৈরি করার সময় আফ্রিকার প্রকৃত আকারের কথা মাথায় রাখা হয়নি।
মানচিত্রের এই পরিবর্তন শুধু ভূগোলের বিষয় নয়, ক্ষমতার সম্পর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। শিশুদের শৈশব থেকে যখন এমন মানচিত্র দেখানো হয়, যেখানে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো সুবিশাল আর আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকা সংকুচিত, তখন তা তাদের মনোজগতে বৈশ্বিক শক্তি ও গুরুত্বের একটি অস্বাভাবিক ধারণা তৈরি করে। এই মানচিত্রের প্রজেকশন পরিবর্তন শুধু ভূখণ্ডের আকার নয়, ক্ষমতার সম্পর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
"মানচিত্র কোনো দেশের গরিবি বা সমৃদ্ধি তৈরি করে না, কিন্তু পৃথিবীকে কীভাবে দেখতে হবে তার একটি মানসিক অভ্যাস তৈরি করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিউ ইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেরারডাস মার্কেটর (মানচিত্র প্রজেকশনের উদ্ভাবক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৪ (ভোটের পক্ষে), ১ (ভোটের বিপক্ষে), ১৪ (গুণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!