📌 ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনারা ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডে তাঁবু স্থাপন করেছে। ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের দাবি, গত জুলাই থেকে এই উত্তেজনা চলছে। সীমান্ত বিরোধের ইতিহাসে এটিই সর্বশেষ বড় ঘটনা।
ভারত-চীন সীমান্তে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত এলাকায় চীনা সেনারা ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডে তাঁবু স্থাপন করেছে। ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুরের মন্তব্য এই ঘটনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেছেন, গত জুলাই থেকে এই এলাকায় চীনা সেনাদের উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে এবং তারা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনারা ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডে তাঁবু স্থাপন করেছে — ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের দাবি
- 📌 মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর বলেছেন, গত জুলাই থেকে এই উত্তেজনা চলছে এবং চীনা সেনারা এলএসি থেকে ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে দখল করেছে
- 📌 ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে — সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে
- 📌 ১৯৬২ সালের যুদ্ধ থেকে সীমান্তের বড় অংশের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি — বিভিন্ন সময়ে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে
- 📌 ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ভারতের অন্তত ২০ জন সেনা নিহত হন — সর্বশেষ প্রাণঘাতী সংঘর্ষ
📰 বিস্তারিত
ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলার সময় হিমালয় সীমান্তে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর রাজস্থানের একটি অনুষ্ঠানে জানান, গত জুলাই থেকে অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত এলাকায় চীনা সেনারা ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডে তাঁবু স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, শুরুতে দুই দেশের সেনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে গেলেও কয়েক দিন পর চীনা সেনারা আরও সংখ্যায় ফিরে আসে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে দখল করে নেয়।
সীমান্তের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার এই মন্তব্য বিরল। সাধারণত ভারত সরকার এই ধরনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অবস্থান জানায়। কিন্তু কাপুরের বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) দুই দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলকে আলাদা করলেও অনেক এলাকায় এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। পাহাড়, নদী, হ্রদ ও তুষারাবৃত চূড়ার কারণে সীমান্ত চিহ্নিতকরণও কঠিন হয়ে পড়ে।
চীনের দাবি অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে মনে করা হয়। কিন্তু নয়াদিল্লি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে অঞ্চলটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে আসছে। ১৯৬২ সালে সীমান্ত বিরোধের জেরে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। এরপরও সীমান্তের বড় একটি অংশের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে, যা সংঘর্ষ ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সর্বশেষ বড় প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটে ২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায়। ওই ঘটনায় ভারতের অন্তত ২০ জন সেনা নিহত হন।
"চলতি বছরের শুরুর দিকে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় চীনা সেনারা ফিরে এসে ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছে। গত জুলাই থেকে এই ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।" — শত্রুজিৎ সিং কাপুর, ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের মহাপরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অরুণাচল প্রদেশ, ভারত; হিমালয় সীমান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শত্রুজিৎ সিং কাপুর (ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬-৭ কিলোমিটার (ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা দখল), ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার (সীমান্ত দৈর্ঘ্য), ২০ জন (২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষে ভারতের নিহত সেনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!