📌 সৌদি আরবের অনুরোধে চীন গোপনে ইরানকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছে। লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুতিদের সামরিক অগ্রসরতার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। চীন ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে
লোহিত সাগরের সামরিক উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়ার পর চীন গোপনে ইরানকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনুরোধ করেছে। সৌদি আরবের এই অনুরোধের পর চীন ইরানের কাছে একটি জোরালো বার্তা পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনজন ইরানি কর্মকর্তা। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। হুতিদের সামরিক অগ্রসরতার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল আরও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৌদি আরবের অনুরোধে চীন গোপনে ইরানকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছে, যা প্রকাশ্যে চীনের বক্তব্যের তুলনায় অনেক জোরালো
- 📌 চীন ইরানের ওপর নির্ভরশীল জ্বালানি সরবরাহপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে
- 📌 ইরান জবাব দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে
- 📌 চীন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কোনো স্পষ্ট হুমকি দেনি, তবে হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে তা সম্ভব
- 📌 ২০২৫ সালে ইরানের ৮০ শতাংশের বেশি তেল চীন কিনেছে, যা প্রতিদিন গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল
- 📌 হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পর লোহিত সাগরে হুতিদের দীর্ঘস্থায়ী হামলা মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির দুটি প্রধান পথ বাধাগ্রস্ত করবে
📰 বিস্তারিত
লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুতিদের সামরিক অগ্রসরতার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব চীনের সহায়তা চেয়েছে। চীন প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ ও নিরাপদ নৌ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু গোপনে ইরানকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছে। তিনজন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীন ইরানের ওপর প্রভাব কাজে লাগিয়ে হুতিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়। তারা বলেছেন, চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
চীনের এই বার্তা কীভাবে ইরানের কাছে পৌঁছেছে, তা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেছিলেন, কিন্তু এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানের জবাব ছিল যে, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।
চীন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কোনো স্পষ্ট হুমকি দেনি, তবে হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে তা সম্ভব। একই সঙ্গে, চীন ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব উল্লেখ করেছে। ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে, যা প্রতিদিন গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল।
এই অঞ্চলের এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, বেইজিং এমন কয়েকটি রাজধানীর একটি যারা এখনো ইরানের ওপর চাপ দিয়ে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলতে পারে। হুতিদের সামরিক অগ্রসরতা মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির দুটি প্রধান পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার পর লোহিত সাগরে হুতিদের দীর্ঘস্থায়ী হামলা মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির দুটি প্রধান পথ একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত করবে।
“চীন আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে পৌঁছাক, তা দেখতে চায় না। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ানো কোনো পক্ষেরই স্বার্থে নয়।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, ইরান, সৌদি আরব, চীন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাগচি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা, তিনজন ইরানি কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ শতাংশ (ইরানের তেলের ক্রেতা চীন), ১৪ লাখ ব্যারেল (প্রতিদিন তেল রপ্তানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!