📌 ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি ২৮ বছর ধরে পায়ে হেঁটে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। দক্ষিণ আমেরিকার চিলি থেকে শুরু করে ৫০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের হাল শহরে পৌঁছেছেন। এই অবিশ্বাস্য অভিযানকে ‘গোলিয়াথ এক্সপেডিশন’ নামে পরিচিত করা হয়
ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি ২৮ বছর ধরে পায়ে হেঁটে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। দক্ষিণ আমেরিকার চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে শুরু করে ৫০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের হাল শহরে নিজের মায়ের বাড়িতে পৌঁছেছেন। এই অবিশ্বাস্য অভিযানকে ‘গোলিয়াথ এক্সপেডিশন’ নামে পরিচিত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ বছর ধরে পায়ে হেঁটে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে ফিরেছেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি
- 📌 ৫০ হাজার কিলোমিটার বা প্রায় ৩১ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের হাল শহরে পৌঁছেছেন
- 📌 ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর হাল শহরে পৌঁছেছেন
- 📌 ৩০টি দেশ ও চারটি মহাদেশ অতিক্রম করে তিনি বাড়িতে ফিরেছেন
- 📌 অভিযানের সময় তিনি মেক্সিকোতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং রাশিয়ায় ভিসা জটিলতার কারণে আটকে পড়েছেন
- 📌 ২০১২ সালে রাশিয়ার ভিসা না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত হেঁটে যান
- 📌 বাড়িতে ফিরে তিনি বলেছেন, ‘মানুষের নিজের সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়’
📰 বিস্তারিত
৫৭ বছর বয়সী কার্ল বুশবি ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার চিলির পুন্তা আরেনাস থেকে পায়ে হেঁটে পৃথিবী ঘুরে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন। এই দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিযানকে ‘গোলিয়াথ এক্সপেডিশন’ নামে পরিচিত করা হয়। অভিযানের মূল শর্ত ছিল কোনো যানবাহনের সাহায্য ছাড়াই পৃথিবী ঘুরে বাড়িতে ফেরার লক্ষ্য পূরণ করা। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দুর্গম জঙ্গল, বিস্তীর্ণ মরুভূমি, বরফে ঢাকা প্রান্তর এবং বিপজ্জনক জলপথ অতিক্রম করেছেন। আলাস্কা থেকে রাশিয়ার মধ্যবর্তী বেরিং প্রণালি এবং কাস্পিয়ান সাগরও তিনি পাড়ি দিয়েছেন। গত অক্টোবর ফ্রান্স থেকে সাঁতরে ইংল্যান্ডে পৌঁছান তিনি।
অভিযানটি মসৃণ ছিল না। মধ্য আমেরিকার পানামায় গ্রেপ্তার হয়ে ১৮ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে কার্লের। মেক্সিকোতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। রাশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা ও সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে পড়েন তিনি। ২০১২ সালে রাশিয়ার ভিসা না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত হেঁটে যান কার্ল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, করোনাভাইরাস মহামারি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় থেমে থাকতে হয়েছে তাঁকে।
২ নভেম্বর হাল শহরে পৌঁছালে শত শত মানুষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। শেষ কয়েক মাইল পথও হেঁটেই পাড়ি দেন তিনি। বাড়ির সামনে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর মা অ্যাঞ্জেলা বুশবি, ছেলে এবং ১২ বছর বয়সী নাতনি। মাকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তটি উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে। কার্ল বলেন, ‘২৮ বছর পর এমন অভ্যর্থনা পাওয়ার চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করার ছিল না। এই যাত্রা একার পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার কারণে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।’
"মানুষের নিজের সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের সাহস রাখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইংল্যান্ডের হাল শহর, চিলির পুন্তা আরেনাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কার্ল বুশবি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ বছর, ৫০ হাজার কিলোমিটার, ৩০টি দেশ, ৫৭ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!