📌 কিশোরগঞ্জের একটি ডাকাতির মামলায় ২৬ বছর আগে সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালত জামিন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে। হৃদরোগসহ অসুস্থতার মধ্যে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন
ঢাকা: ২৬ বছর আগের একটি ডাকাতি-হত্যার মামলায় ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলেও তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আদালত তার শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করেও জামিন দিতে অস্বীকার করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে ২৬ বছর পর আত্মসমর্পণে কারাগারে পাঠানো হয়েছে
- 📌 ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের বড় বাজারে ডাকাতির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন
- 📌 ডাকাতরা সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়
- 📌 আদালতে আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ জানান, নুর মোহাম্মদ হৃদরোগসহ জটিল রোগে ভুগছেন
- 📌 ২০০৩ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ জন আসামির মধ্যে নুর মোহাম্মদের সাজা পরে ১০ বছরে কমিয়ে দেওয়া হয়
- 📌 ২০০৭ সালে উচ্চ আদালতে নুর মোহাম্মদের সাজা ১০ বছরে কমিয়ে দেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ জানান, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর। তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হয় তার। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।
২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার পর দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কিশোরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে মামলাটি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে হাবিবুর রহমান, শাহ আলম, মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
"আমার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে অসুবিধা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।"
— আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ
২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট দেওয়া রায়ে কেবল আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। একই রায়ে নুর মোহাম্মদের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পরও এতদিন সাজা ভোগ করেননি নুর মোহাম্মদ। মামলার বিচার চলাকালে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ২৬ বছর পর মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল), কিশোরগঞ্জ (বড় বাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুর মোহাম্মদ (১০৪ বছর), আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন (তৎকালীন উপপরিদর্শক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৪ বছর (বয়স), ২৬ বছর (পলাতক), ১২ লাখ টাকা (লুট করা), ১১০ ভরি স্বর্ণ (লুট করা), ১৪ জন আসামি, ১০ বছরের কারাদণ্ড (নুর মোহাম্মদের)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!