📌 ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পিছনে রয়েছে ১৯১৭ সালের বালফোর ঘোষণা থেকে শুরু করে বর্তমান গাজা সংকটের ইতিহাস। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও দুই রাষ্ট্র সমাধানের দাবি নিয়ে ব্রিটেনের নতুন অবস্থান কীভাবে গড়ে উঠেছে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে
১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বালফোরের একটি মাত্র ৬৭ শব্দের চিঠি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে শতাব্দী ধরে প্রভাবিত করছে। সেই বালফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিনে ‘ইহুদি জনগণের জন্য একটি জাতীয় আবাসভূমি’ প্রতিষ্ঠার সমর্থন জানানো হয়েছিল। এক শতাব্দী পরে, সেই ব্রিটেনই এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ঐতিহাসিক দায়ের প্রতিফলন দেখাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যার লক্ষ্য পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
- 📌 ১৯১৭ সালের বালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সমর্থন জানিয়েছিল, কিন্তু একই সময়ে সাইক্স-পিকো চুক্তির মাধ্যমে ফ্রান্সের সাথে অটোমান ভূখণ্ড ভাগ করার পরিকল্পনা করেছিল।
- 📌 বর্তমান ব্রিটিশ নীতির পিছনে রয়েছে গাজা যুদ্ধের মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের দাবি — যা শুধু ইতিহাসের দায় নয়, বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন।
- 📌 ব্রিটেনের মতে, ‘ই-১’ প্রকল্পের মতো বসতি কার্যক্রম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সংযোগকে দুর্বল করতে পারে, তাই এসব প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতা aprove করে ব্রিটেন মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছিল। তারা একই সময়ে আরবদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইহুদিদেরও ফিলিস্তিনে জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সমর্থন জানিয়েছিল। এই দ্বৈত নীতি পরবর্তীতে সংকটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯১৮ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেট লাভ করে। এরপর থেকে ইহুদি অভিবাসন বাড়তে থাকে, যা ফিলিস্তিনি আরবদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সালের ফিলিস্তিনি আরব বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার পিল কমিশন গঠন করে। কমিশন ফিলিস্তিনকে ভাগ করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র এবং একটি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয় — যা দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রস্তাবগুলির মধ্যে একটি। তবে উভয় পক্ষই এ প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসি জার্মানির ইহুদি গণহত্যার পর ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ ফিলিস্তিন বিভাজন পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের পথ প্রশস্ত করে।
১৯৪৮ সালের ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭৩ এবং ১৯৮২ সালের যুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণ বিপুলসংখ্যক শরণার্থী হয়ে পড়েন। বর্তমান ব্রিটিশ নীতির পরিবর্তন শুধু ইতিহাসের দায়ের প্রতিফলন নয়, বরং বর্তমান গাজা যুদ্ধের মানবিক সংকট এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া।
"ব্রিটেনের এই নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট অবস্থান নেয়। ‘ই-১’ প্রকল্পের মতো কার্যক্রম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক একত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।" — ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রিটেন, ফিলিস্তিন, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আর্থার বালফোর, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, লর্ড রথচাইল্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭ শব্দের চিঠি (বালফোর ঘোষণা), ২ নভেম্বর ১৯১৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!