📌 যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবকে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তির মূল্য আনুমানিক ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চুক্তি সম্পন্ন হবে না
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবকে ৪৮টি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন এবং ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই খবর প্রকাশ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে
- 📌 চুক্তির আনুমানিক মূল্য ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৪৯টি ইঞ্জিন এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে
- 📌 মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চুক্তি সম্পন্ন হবে না, যা ২০১৮ সালের জামাল খাশোগি হত্যার পর থেকে সৌদি আরবের সাথে অস্ত্র চুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে
- 📌 সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন-২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের জন্য এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চায়
- 📌 ইসরায়েলের ‘কোয়ালিটেটিভ মিলিটারি এজ’ বা সামরিক সক্ষমতায় গুণগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের নীতি পরীক্ষার মুখে পড়বে
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সময়ে এই অনুমোদন একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য পরিবর্তন এবং ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চেয়েছিল সৌদি আরব। বহুদিন ধরেই লকহিড মার্টিনের এই যুদ্ধবিমানের প্রতি আগ্রহ রয়েছে সৌদি আরবের। চুক্তিতে ৪৮টি যুদ্ধবিমান এবং প্র্যাট অ্যান্ড হুইনির ৪৯টি ইঞ্জিন থাকবে। এর পাশাপাশি যোগাযোগ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সহায়তা সামগ্রীও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সৌদি আরবের দূতাবাস এই বিক্রিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির প্রতিফলন। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন-২০৩০ কর্মসূচির অধীনে দেশটি উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক ও সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
"প্রস্তাবিত এফ-৩৫ বিক্রি সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন"
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসরায়েল প্রায় এক দশক ধরে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে এবং এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মালিক একমাত্র দেশ ইসরায়েল। তবে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই চুক্তি সম্পন্ন হবে না। ২০১৮ সালের জামাল খাশোগি হত্যার পর থেকে কংগ্রেসের সদস্যরা সৌদি আরবের সাথে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, সৌদি আরবের দূতাবাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার, ৪৯টি ইঞ্জিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!